ফ্রন্টএন্ড ও ব্যাকএন্ড ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কি? পার্থক্য কোথায়?

ফ্রন্টএন্ড ও ব্যাকএন্ড ওয়েব ডেভেলপমেন্ট

নতুন অনেকেই জানতে চান ফ্রন্টএন্ড ও ব্যাকএন্ড ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কি? এবং এদের মধ্যে পার্থক্য কি? একটা সময় ছিল যখন ডেভেলপমেন্ট বলতে শুধু ব্যাকএন্ড ডেভেলপমেন্টকেই বুঝাত। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে ওয়েব ডিজাইনের সীমা ফটোশপ, এইচটিএমএল এবং সিএসএস এর গন্ডি পেরিয়ে জাভাস্ক্রিপ্ট এবং জেকোয়েরিকেও ছুঁয়েছে। একটি ওয়েবসাইটের লোডিং টাইম কমিয়ে আরো ইন্টার্যায়ক্টিভ করতেই এগুলো ব্যবহার হয়।

ফ্রন্টএন্ড ওয়েব ডেভেলপমেন্ট

ফ্রন্টএন্ড বলতে ওয়েব ডেভেলপমেন্টের সেই অংশটিকেই বুঝায় যা আমরা ব্রাউজারে দেখি বা যার সাথে সরাসরি ইউজারের ইন্টারেক্ট হচ্ছে। এটাকে ক্লায়েন্ট সাইড ও বলা হয়। এর মাঝে ফর্ম, ড্রপডাউন মেন্যু, বাটন, ট্রানসিশন, স্লাইডার, কন্টাক্ট ফর্ম অন্যতম।

ফ্রন্ট এন্ড বা ওয়েব সাইটের ভিজুয়াল অংশ তৈরিতে ব্যবহৃত হয় HTML, CSS and JavaScript। সব গুলো ওয়েব সাইটে HTML এবং CSS দরকার হয়। ওয়েব সাইটের কন্টেন্ট গুলো দেখানো হয় HTML দিয়ে। আর কন্টেন্ট গুলো দেখতে কেমন হবে, কোনটা কোন পাশে হবে ইত্যাদি ঠিক করে দেওয়া হয় CSS দিয়ে। ক্লায়েন্ট সাইডে এনিম্যাশন সহ অন্যান্য ফাংশনাল কাজ করার জন্য ব্যবহার করা হয় জাভাস্ক্রিপ্ট। কেউ যদি কোন ওয়েব সাইটের শুধু ফ্রন্ট এন্ড অংশ ডেভেলপ করে, তাকে বলে ফ্রন্ট এন্ড ডেভেলপার।

ব্যাকএন্ড ওয়েব ডেভেলপমেন্ট

ফ্রন্টএন্ড অংশ ডেভেলপমেন্ট করার জন্য শুধু HTML, CSS and JavaScript ব্যবহার করতে হলেও ব্যাকএন্ড অংশ ডেভেলপমেন্ট করার জন্য রয়েছে অনেক গুলো প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ। টপ কয়েকটি ওয়েব প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ হচ্ছে PHP, ASP, Java, JavaScript, Ruby, Python ইত্যাদি। ব্যাকএন্ড প্রোগ্রামিং এর লিস্টে JavaScript এর নাম দেখে অবাক হচ্ছো হয়তো। JavaScript দিয়ে ফ্রন্টএন্ডের পাশা পাশি একই সাথে সার্ভার সাইড কোড লেখা যায়। ফ্রন্টএন্ড এ দেয়া তথ্যগুলো যখন সংরক্ষণের ও বিভিন্ন ফাংশনালিটির দরকার তখনই প্রয়োজন হয় ব্যাকএন্ড ডেভেলপমেন্টের। আর যিনি ব্যাকএন্ড অংশ ডেভেলপ করে, তাকে বলা হয় ব্যাক এন্ড ডেভেলপার।

ব্যাকএন্ড সাধারণত তিনটি অংশের সমন্বয়ে গঠিত:

১. সার্ভার

২.অ্যাপ্লিকেশন এবং

৩.ডাটাবেজ।

ফেসবুকে লগইন করার পর যে অংশটুকু দেখতে পান সেটি হল ফ্রন্টএন্ড, সেখানে একটি ছবি আপলোড করলে অ্যাপ্লিকেশন সেগুলোকে ব্যাকএন্ড এর ডাটাবেজ এ জমা করে। হয়তো প্রশ্ন জাগতে পারে, ডাটাবেজ জিনিসটা কি! আসলে ডাটাবেজকে তুলনা করতে পারেন বিশাল আকৃতির একটি এক্সেল শীটের সাথে যা হয়তো আমেরিকার অ্যারিজোনার কোন এক কম্পিউটারে(সার্ভারে) জমা আছে।

তারমানে আপনার সকল ইনফরমেশন বা তথ্য সার্ভারের ডাটাবেজে সংরক্ষিত হচ্ছে। আর যখনি আপনি লগইন করছেন, সেই সংরক্ষিত তথ্যগুলোই প্রদর্শিত হয়। আর এই পুরো কাজটিই নিয়ন্ত্রিত হয় ব্যাকএন্ড অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে। যারা এই অ্যাপ্লিকেশনগুলো তৈরী করে দেন তাদেরকেই বলা হয় ব্যাকএন্ড ওয়েব ডেভেলপার।

ওয়েব ডিজাইন কি? কিভাবে শিখব? কি কি শিখব? ক্যারিয়ার গাইডলাই

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শিখতে কি কি জানতে হবে?

স্ট্যাটিক এবং ডাইনামিক ওয়েবসাইটের মধ্যে পার্থক্য কি?

ব্যাকএন্ড এর আরেকটা অংশ হচ্ছে ডেটাবেজ। ওয়েব সাইটের ডেটা গুলো সাজিয়ে রাখার জন্য ডেটাবেজ ব্যবহার করা হয়। এমন কয়েকটি ডেটাবেজ ম্যানজেমেন্ট সিস্টেম হচ্ছে Oracle, MySQL, Microsoft SQL ইত্যাদি। এসব ডেটাবেজ ম্যানজেমেন্ট সিস্টেম থেকে ডেটা দেখা, ডেটাবেজে ডেটা স্টোর করা, ডেটা আপডেট করা এবং ডেটা ডিলেট করার জন্য ব্যবহার করা হয় SQL। SQL মানে Structured Query Language. আবার আপনি চাইলে এক সাথে ফ্রন্টএন্ড এবং ব্যাকএন্ড অংশ একাই ডেভেলপ করতে পারেন, তখন আপনাকে বলবে ফুলস্ট্যাক ওয়েব ডেভেলপার।

Recommended For You

About the Author: Soikat Singha

আমি একজন ফুলস্টেক ওয়েব ডেভেলপার। ডোমেইন এবং হোষ্টিং প্রোভাইডার হিসেবে কাজ করছি বহু বছর। আমার বিশ্বাস আপনি ফ্রিল্যান্সিং বা অনলাইন ক্যারিয়ার বিষয়ে শিখতে চান। আমার লেখা বাংলা টিউটোরিয়াল আপনার ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্টে একটুও সাহায্য করতে পারলেই আমার সার্থকতা। ফেসবুকে আমার সাথে যুক্ত থাকুনঃ https://www.facebook.com/soikatsingha24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *