বাউন্স রেট (Bounce Rate) কি? ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট কমানোর ১৮ টি উপায়

Bounce Rate

বাউন্স রেট (Bounce Rate) গুগল এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ranking factor. বাউন্স রেট বেশি থাকা যেকোন ওয়েবসাইটের জন্য ক্ষতিকর । আপনারা অনেকেই হয়তো বাউন্স রেট সম্পর্কে কম বা বেশি জানেন । তারপরও চলুন আরো একবার জেনে নেওয়া যাক বাউন্স রেট কী? বাউন্স রেট হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইটের সেই সমস্ত ভিজিটরের শতকরা হার। যারা শুধু আপনার ওয়েবসাইটের প্রথম পেজে এসে আবার চলে যায়। কিন্তুস সাইটের ভিতরের আর কোন পেজ ভিজিট করে না।

এর সাহায্যে গুগল যেকোনো ওয়েব পেজের কোয়ালিটি (quality) এবং প্রাসঙ্গিকতার (relevancy) বিষয়ে জেনে নিতে পারে।

যদি আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট (bounce rate) অনেক বেশি থাকে, তাহলে হাজার ভালো করে এসইও (SEO) করেও লাভ হবেনা ?

বাউন্স রেট বেশি থাকা ওয়েবসাইট গুলো, গুগল এর নজরে low quality ওয়েবসাইট। ভিসিটর্স এর ক্ষেত্রে আপনার লিখা আর্টিকেল কতটা কাজে আসছে ? আপনার কনটেন্টটি, ইউসার এর দ্বারা সার্চ করা প্রশ্ন বা সমস্যার সাথে জড়িত ও প্রাসঙ্গিক কি না ? এই সব বিষয়ে গুগল একমাত্র এই “বাউন্স রেট (bounce rate)” এর মাধ্যমে সহজেই বুঝে যেতে পারে।

যেহেতু Google সব সময় ইউসার এর অভিজ্ঞতার (user experience) কথা ভেবেই ওয়েবসাইট গুলোকে তার SERP এ র্যাংক করেন, তাই ওয়েব পেজের বাউন্স রেট কম রাখাটা SEO র ক্ষেত্রে অনেক জরুরি।

কিভাবে ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট জানবেন?

গুগল অ্যানালিটিকস টুলসের মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট জানতে পারা যায়। Google analytics গুগল এর একটি web analytics tool. এই টুলসের সাহায্যে আপনার সম্পূর্ণ website বা ওয়েবসাইটের আলাদা আলাদা কনটেন্ট পেজ গুলোতে কত bounce rate তা দুটোই আপনারা জেনে নিতে পারবেন। এছাড়াও আপনার ওয়েবসাইটে কিভাবে (অরগ্যানিক সার্চ, পেইড সার্চ ইত্যাদি) ভিজিটর আসে, আপনার সাইটের বিগত সময়ের বাউন্স রেটের পর্যালোচনা সহ অন্যান্য আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ডাটা প্রদর্শন করে। এগুলি দেখে আপনি খুব সহজেই আপনার সাইটের বাউন্স রেট বেশি হওয়ার কারন বের করতে পারবেন।

সাধারণত বেশিরভাগ সাইটের বাউন্স রেটের হার ৫০% এর মত হয়ে থাকে। তবে যদি ৬০% এর বেশি হলেই সেটি সাইটের জন্য ক্ষতিকর। যদি আপনার সাইটের বাউন্স রেট এর চেয়েও বেশি হয় বা ৮০% এর মত হয় তাহলে এটি আপনার সাইটের গুগল রেংকিং এর জন্য একটি বিরাট সমস্যা। এর জন্য আপনার সাইটের রেপুটেশন খারাপ হয়ে যাবে এবং যদি ব্লগে এডসেন্স একাউন্ট থাকে তাহলে ওটাও সাসপেন্ড হতে পারে।

গুগল অ্যানালিটিকস টুলস ব্যবহার করতে আপনার একটি Google analytics account থাকতে হবে। একাউন্ট করতে শুধু google account / Gmail account থাকলেই হয়। নিজের ওয়েবসাইটের domain যুক্ত করে Google analytics account ভেরিফাই করতে হয়।

তারপর, বিভিন্ন মাধ্যমে আপনি আপনার web page গুলোর bounce rate check করতে পারবেন।

  • Behavior >> Site content >> All Pages >> Bounce Rate
  • Acquisition >> All traffic >> Channels >> Bounce Rate
  • Acquisition >> Source/Medium >> Bounce Rate

বাউন্স রেট ক্যালকুলেশন করতে হয় যেভাবে

আপনার ওয়েবসাইটে প্রতিদিন ভিজিটর আসে আর যায়। এই ভিজিটর গুলো কতক্ষন থাকছে তার উপর নির্ভর করে বাউন্স রেট নির্ণয় করা হয়। বাউন্স রেট ক্যালকুলেশনের সূত্রটি হচ্ছে…

বাউন্স রেট ক্যালকুলেশনের সূত্র

বাউন্সরেট= পেজ পড়েই বের হয়ে যায় তার সংখ্যা/মোট ভিজিট * ১০০

আরেকটু বুঝিয়ে বলছি, ধরুন আপনার সাইটে প্রতি মাসে মোট ২০,০০০ ভিজিটর আসে। তার মধ্যে ১০,০০০ ভিজিটর যদি প্রথম পেজ পড়েই সাইট থেকে বের হয়ে যায়। তবে আপনার সাইটের বাউন্স রেট ক্যালকুলেশন করতে হবে এভাবে ১০,০০০/২০,০০০*১০০=৫০%। সুতরাং আপনার সাইটের বাউন্সরেট হচ্ছে ৫০%।

এখানে মনে রাখা জরুরি যে, লোয়ার বাউন্স রেট= আপনার সাইট ভালো পার্ফোমেন্স আছে। আর হায়ার বাউন্স রেট=আপনার সাইট থেকে দ্রুত ট্রাফিক চলে যাচ্ছে যা আপনার সাইটের জন্য কখনোই ভালো নয়।

Google Analytics এ এভারেজ স্টান্ডার্ড বাউন্সরেট এর পরিসংখ্যান

​ইন্ডাস্ট্রি​স্টান্ডার্ড বাউন্সরেট
​সার্ভিস সাইট​১০-৩০%
​রিটেইল / ই-কামার্স সাইট​৩০-৪০%
​কন্টেন্ট বেসড ওয়েবসাইট​৪০-৬০%
​লিড জেনারেশন সাইট​৩০-৫০%
​ল্যান্ডিং পেজ​৭০-৯০%
​ব্লগ​৭০-৯৫%

৩০% বাউন্সরেট যে কোন সাইটের জন্যই স্বাভাবিক তবে আমার মতে এর সহনীয় এভারেজ হার হচ্ছে ৫৫%। কিন্তু যদি এই বাউন্সরেট ৬০% এর উপরে চলে গেলে আপনাকে এই বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। আর যদি এটা ৮০% প্লাস হয় তবে ত আপনার জন্য আলার্মিং রেট।

সাইটের bounce rate কত হলে ভালো হয় ?

বিভিন্ন ওয়েবসাইটের content quality র ওপরে নির্ভর করে বাউন্স রেট এর পরিমান আলাদা আলাদা হতে পারে।

এখন, যদি ভালো পরিমানের বাউন্স রেট এর কথা বলি তাহলে, ৭০% থেকে কম থাকলে ভালো।

  • ৮০% বা তার থেকে অধিক বাউন্স রেট মানে অধিক খারাপ।
  • ৭০ – ৭৯% মানে প্রায় খারাপ।
  • ৫৫ – ৬৯% মানে মোটামোটি ভালো।
  • ৩০ – ৫৪% মানে অনেক ভালো।

এমনিতে, একটি blog website এর ক্ষেত্রে bounce rate কম থাকে।

প্রায়, ৭০ – ৭৯% ভেতরে।

কারণ, ইউসার রা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্লগের কনটেন্ট গুলো আগেই ওপরে ওপরে দেখে নেন।

এবং, যদি তারা মনে করেন যে আর্টিকেলটিতে তেমন ভালো কিছু নেই, তাহলে তারা সাথে সাথেই আপনার ওয়েবসাইট থেকে চলে যায়।

আর তাই, bounce rate কমানোর জন্য ওয়েবসাইটের আর্টিকেল গুলো প্রচুর ভালো করে ও আকর্ষণীয় ভাবে লিখতে হবে।

মনে রাখবেন, আপনার মূল উদ্দেশ্য থাকতে হবে যে, পাথকেরা যাতে বেশি সময় ধরে আপনার কনটেন্ট গুলো পড়েন।

SEO নিয়ে লেখা বই ডাউনলোড করুনঃ SEO Bangla PDF Book Download

​বাউন্স রেট বেশি হলে কি ধরনের সমস্যা হয়?

যদি সাইটের বাউন্স রেট বেশি হলে কি ধরনের সমস্যা হতে পারে? গুগল সব সময়ই চায় সার্চ কোয়েরিতে সব থেকে রিলেভেন্ট রেজাল্ট দেখাতে। কথার কথা এখন আপনার ওয়েবসাইটের বাউন্সরেট যদি হয় ৮০% তার মানে অধিকাংশ ভিজিটর ই আপনার সাইটে প্রবেশ করে সাথে সাথেই আবার বের হয়ে যাচ্ছে। গুগল তখন বুঝতে পারে এই সার্চ কোয়েরির জন্য আপনার ওয়েবপেজটি উপযুক্ত না। তখন গুগল আপনার ওয়েবসাইটকে সার্চ রেজাল্টে পেছনে ফেলে অন্য ওয়েবাসইট কে সামনে জায়গা করে দিবে।

​আবার যদি উল্টোটা হয়, অর্থাৎ বাউন্সরেট যদি ৩০% হয় তারমানে ঐ পেজে ভিজিটর প্রবেশ করে আরো কিছু পেজ ভিজিট করছে। তাহলে গুগল বুঝতে পারে যে ভিজিটর তার চাহিদা মতো রেজাল্ট খুজে পেয়েছে। অর্থাৎ কম বাউন্সরেট সার্চ ইঞ্জিনকে বুঝাতে সমর্থ হয় যে সার্চ কোয়েরির জন্য এই রেজাল্ট টি  রিলেভেন্ট।

বাউন্স রেট বৃদ্ধির কারণ এবং কমানোর উপায়

বন্ধুরা, এবার চলুন জেনে নেওয়া যাক বাউন্স রেট বৃদ্ধির কারণ এবং তার সমাধান সমূহগুলি। আমি যে নিয়মগুলো ব্যাপারে বলবো সেগুলো ভালো করে এপ্লাই করলে আপনার ওয়েবসাইটের bounce rate অবশই কম থাকবে। সাটের বাউন্স রেট কমিয়ে হলে বেশ কিছু নিয়ম আছে। এই নিয়মগুলো ঠিক মত পালন করতে পারলে বাউন্স রেট স্বাভাবিক থাকবে। নিচে আমি এই নিয়ে বিস্তারিত ভাবে লেখা শেয়ার করলাম। আশা করি আপনাদের কাজে আসবে। আসুন তাহলে শুরু করি।

. সাইটের ডিজাইন:

আপনার সাইটের বাউন্স রেট কমাতে হলে আপনার সাইটকে এমনভাবে ডিজাইন করতে হবে যেন প্রথম দর্শনেই ভিজিটরদের আপনার সাইটটিকে ভাল লেগে যায়। আপনার সাইট যেন রং-বেরংঙ্গের এনিমেশন বা অ্যাড দিয়ে ভরা না থাকে, এছাড়াও অপ্রয়োজনীয় গ্রাফিক্সের ব্যবহার করে  সাইটকে ভিজিটরদের কাছে চোখ ধাঁধানো করতে গিয়ে যেন বিরক্তির কারণ না করে ফেলেন সে ‍দিকটি খেয়াল রাখবেন। চেষ্টা করুন আপনার সাইটে যেন স্বাভাবিক সৌন্দর্য বজায় থাকে, কৃত্রিমতার কোন প্রয়োজন নেই।

মনে রাখবেন, আপনার ব্লগে আসা ভিজিটররা একটি simple এবং clean ওয়েবসাইট ডিজাইন পছন্দ করেন। তাছাড়া, সঠিক কালার কম্বিনেসনের অভাব এবং ঘিচি মিচি করে ওয়েবসাইট ডিজাইন করলে, পাঠকের জন্যে আর্টিকেল পড়াটা কষ্টকর হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ওয়েবসাইটের ডিজাইন responsive ও মোবাইল ফ্রেইন্ডলি অবশই হতে হবে। Responsive design এর ফলে, আপনার ওয়েবসাইট যেকোনো size এর device গুলোতে সঠিক ভাবে ওপেন হবে এবং পাঠকরা সহজেই আর্টিকেল পড়তে পারবেন।

২. ইরিলেভেন্ট কীওয়ার্ড এর ব্যবহার

বেশ কয়েক বছর আগে ব্লাক হ্যাট টেকনিক ইউজ করে ইরিলেভেন্ট কীওয়ার্ড ব্যবহার করে সাইট র‌্যাংক করানো যেতো। তবে সমস্যা হল, ধরুন ভিজিটর কোন কীওয়ার্ড সার্চ করে আপনার সাইটে আসল কিন্তু দেখা গেল আপনার সাইটে ঐ সম্পর্কিত তথ্যটি পুরানো বা ভুল। আবার এমন ও হতে পারে আপনার লেখার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় বিষয়ের সঠিক তথ্যটি পেল না। আর এসব কারনে ভিজিটর ফিরে যাবে এবং বাউন্স রেট বেড়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভবনা থাকে। সুতরাং এক্ষেত্রে আমার পরামর্শ আপনার সাইটটি যে বিষয়ের উপর সে বিষয়ের নতুন তথ্য সঠিকভাবে দিয়ে আপনার সাইট আপডেট রাখুন। তাহলে ভিজিটর আপনার সাইট ছেড়ে যাবেনা। কারণ ভিজিটর মৌমাছির মত, যেখানে মধু পাবে সেখানেই থেকে যাবে।

আরও পড়ুনঃ Keyword density কি ? কিভাবে ক্যালকুলেট করবেন এবং কত Percent হওয়া উচিত?

৩. সাইটের লোডিং টাইম বা স্পীড কমান

লোডিং স্পিড ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। কোনো ওয়েবসাইট ৩ সেকেন্ডের মধ্যে লোড না হলে ৩০% ভিজিটর ওই পেজ বা আর্টিকেল বা কনটেন্ট না পড়েই বিরক্ত হয়ে আপনার ওয়েবসাইট ছেড়ে চলে যাবে। অর্থাৎ ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট কমাতে হলে শুরুতেই ওয়েবসাইটের লোডিং স্পিড ৩ সেকেন্ডের কমে নিয়ে আসতে হবে। সাইট লোড হতে যদি সময় বেশি লাগে তাহলে আপনার সাইটের বাউন্স রেটের হার বৃদ্ধি পাবে। কারণ লোডিং টাইম বেশি লাগলে ভিজিটর আপনার সাইট ত্যাগ করবে।

যার ফলে, সেই ওয়েব পেজের bounce rate প্রচুর বৃদ্ধি পায় এবং high quality content লিখার সত্ত্বেও গুগলের নজরে সেই কন্টেন low quality র হয়ে দাঁড়ায়। তাই সবচেয়ে আগে নিজের ব্লগের loading speed কমানোর চেষ্টা করুন।

. রিলেটেড পোস্ট বা আর্টিকেল না থাকা

একজন ভিজিটর আপনার সাইটে ভিজিট করল এবং কোন একটি বিষয়ের পোস্ট পড়লো। এরপর সে স্বাভাবিকভাবেই চাইবে এ বিষয়ে আরও জানার জন্য। তখন সে দেখবে ঐ বিষয়ে আরও কোন রিলেটেড পোস্ট আছে কিনা। যদি রিলেটেড পোস্ট না থাকে তাহলে ভিজিটর অন্য কোন সাইটে যাবে স্বাভাবিকভাবেই। আর এভাবেই বাড়তে থাকবে আপনার সাইটের বাউন্স রেট। সুতরাং চেষ্টা করবেন সব সময় ব্লগের আর্টিকেলের শেষে যে কোন বিষয়ের উপর কিছু related articles পোস্ট রাখতে। আর্টিকেলের শেষে related articles এর section রাখলে, এতে আপনার ওয়েবসাইটের ভিসিটর্স দের অধিক সময়ের জন্যে ধরে রাখা যেতে পারে। এবং, যদি আপনার ব্লগে কিছু কাজের আর্টিকেল থাকে, তাহলে ইউসার রা সেগুলোতেও ক্লিক করবেন এবং পড়বেন। ফলে, আপনার ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট কমে আসবে। Related post এর ব্যবহার করার জন্য, আপনারা প্রচুর WordPress plugin পেয়ে যাবেন।

৫। Internal linking এর ব্যবহার করুন

ভিজিটরকে সাইটে বেশি সময় সাইতে ধরে রাখার অন্যতম একটি উপায় হলো ইন্টার্নাল লিংকিং।  Internal linking একটি ওয়েবসাইটের On page SEO র ক্ষেত্রে অনেক জরুরি।

এই প্রক্রিয়াতে, আর্টিকেল লিখার সময় আর্টিকেলের সাথে জড়িত ব্লগের অন্যান্য আর্টিকেলের লিংক গুলো কন্টেন্টের ভিতরে দিয়ে দেওয়া হয়।

এই প্রক্রিয়া, ওয়েবসাইটের SEO ভালো করার সাথে সাথে low bounce rate এর ক্ষেত্রেও অনেক কাজে আসে। তাই, ব্লগের বাউন্স রেট কম রাখার ক্ষেত্রে, এই ইন্টারনাল লিঙ্কিং এর প্রক্রিয়া অবশই ব্যবহার করবেন।

৬।  সাইটে ভিজিটর গমন সহজতর না করা:

আপনার সাইটে ভিজিটরগণ যেন সহজে নেভিগেট করতে পারে এ বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। যেমন; আপনার সাইটে ফুটারে টপ পেজের লিঙ্ক দেওয়া যেন ভিজিটর এক ক্লিকেই পেজের উপরে ফিরে যেতে পারে। এছাড়াও আপনার সাইটে লোড হওয়ার পূর্বে যদি কোন স্প্ল্যাশ পেজ প্রদর্শন করে তাহলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আপনার সাইটের ভিজিটর ফিরে যাবে। সুতরাং বাউন্স রেট কমাতে হলে এসব স্প্ল্যাশ পেজ পরিহার করতে হবে যেন ভিজিটর সহজে আপনার সাইটে আসতে পারে।

৭। সাইটে ভিজিটরদের অংশগ্রহনের জন্য কোন অপশন না রাখা:

আপনার সাইটে এমন কিছু অপশন রাখবেন যেন সেখানে পাঠকেরা অংশগ্রহন করতে পারে এবং আলোচনার ঝড় তুলতে পারে। সর্বোপরি আপনার সাইটের ভিজিটরদের অংশগ্রহন নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে ভিজিটর আপনার সাইটের প্রতি আকৃষ্ট হবে এবং আপনার সাইটে বেশি সময় কাটাবে। ফলে আপনার সাইটের বাউন্স রেটের হার কমে যাবে।

৮। ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনের আধিক্য

খেয়াল রাখবেন আপনার সাইটে যেন অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন না থাকে। যেন এমন না হয় বিজ্ঞাপনের কারণে আপনার সাইটের মূল আর্টিকেল পড়ার ক্ষেত্রে অসুবিধের সৃষ্টি হয়। তাহলে ভিজিটরগণ আপনার সাইটে আসাটাকে স্বাভাবিকভাবেই সময় নষ্ট হিসাবে বিবেচনা করবে এবং বিরক্ত হয় চলে যাবে। সুতরাং আপনার সাইটের বাউন্স রেট কমাতে হলে অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন প্রদর্শন থেকে বিরত থাকতে হবে। সাইট এ যদি অতিরিক্ত অ্যাড থাকলে তা কমাতে হবে।  ​তারপর ও ইনকাম করার জন্য বিজ্ঞাপন দেখানো প্রয়োজন হলে সেটা যেনো ভিজিটরের বিরক্তির কারন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। (তবে ব্যক্তিগত ভাবে আমি সাইটে পপ-আপ অ্যাড রাখার পক্ষপাতী না)।

আপনার ওয়েব পেজে যদি অত্যাধিক বিজ্ঞাপনের ব্যবহার করা হয় তাহলে ব্লগের লোডিং স্পিড স্লো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর আপনার ওয়েবসাইট স্লো থাকা মানেই, ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট বৃদ্ধি পাওয়া। তাই আমি বলবো যে, ওয়েবসাইটে অধিক বেশি বিজ্ঞাপন দেখাবেননা।

আর্টিকেল পড়ার সময় যাতে পাঠকের কোনো ধরণের সমস্যা না হয়, তাই প্রয়োজন হিসেবে ৩ থেকে ৪ বার বিজ্ঞাপন দেখলেই যথেষ্ট।

৯। ভিজিটরদের অংশগ্রহনের ব্যবস্থা রাখা

​ওয়েবসাইটে ভিজিটদের অংশগ্রহনের ব্যবস্থা রাখলে সাইটের বাউন্স রেট বাড়ার সম্ভাবনা কমে যায়। তা হতে পারে বিভিন্ন পো বা সার্ভের মাধ্যমে। সাইটে কমেন্ট অপশন চালুর করার মাধ্যমেও ভিজিটর অংশগ্রহন বাড়ানো যায়।

১০। পাঠকের জন্য নয় বরং সার্চ ইঞ্জিনের জন্য পোস্ট করা

কেউ যদি এসইও এর কথা চিন্তা করে কোন আর্টিকেল লিখতে গিয়ে অতিরিক্ত কীওয়ার্ড ব্যবহার করে তাহলে সেটি ভিজিটরদের কাছেও যেমন অখাদ্যে পরিণত হয় তেমনি সার্চ ইঞ্জিনের কাছেও স্প্যাম হিসাবে বিবেচিত হবে। সুতরাং আপনার সাইটে ভিজিটর ধরে রাখার জন্য তথা সাইটের বাউন্স রেট কমানোর জন্য আপনাকে অতিরিক্ত কীওয়ার্ড পরিহার করে সুন্দরভাবে পোস্ট লিখতে হবে।

১১। আর্টিকেলে ইমেজের ব্যবহার

আর্টিকেলে ছবির ব্যবহার করাটা SEO র ক্ষেত্রে খুবই জরুরি। আর্টিকেলে কনটেন্টে ছবি ব্যবহার করে নিজের ব্লগের বাউন্স রেট অবশই কমিয়ে রাখতে পারবেন। ছবির মাধ্যমে পাঠকেরা সহজে যেকোনো বিষয়ে বুঝে যেতে পারেন।

তাই, ব্লগের আর্টিকেলের মাঝে মাঝে কনটেন্ট এর সাথে জড়িত কিছু ছবি ব্যবহার করলে, সেটা পাঠকের আকর্ষণের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এবং পাঠকেরা অধিক সময় নিয়ে ছবি দেখার ফলে, ওয়েবসাইটের bounce rate কম রাখতে সুবিধে হবে।

১২। আর্টিকেলে ছোট প্যারাগ্রাফের ব্যবহার

বড় প্যারাগ্রাফ পাঠকেরা পড়তে অপছন্দ করে। তাই সব সময় ব্লগের আর্টিকেল গুলো লেখার সময় ছোট ছোট প্যারাগ্রাফ করে লিখবেন। এবং কিছু প্যারাগ্রাফ লেখার পর হেডিং (heading) ব্যবহার করবেন।

এতে, পাঠকের কনটেন্ট পড়তে সুবিধে হবে এবং তারা আর্টিকেলের সাথে সংযুক্ত হয়ে থাকবে। এভাবে, স্পষ্ট এবং পরিষ্কার ভাবে কনটেন্ট সাজিয়ে লিখলে পাঠক অধিক সময় আপনার কনটেন্ট পড়ার সুযোগ হয়। এবং এতে ওয়েব পেজের bounce rate কম থাকবে।

১৩। আর্টিকেলে videos ব্যবহার করুন

আর্টিকেলের ভিতরে videos ব্যবহার করে অনেক বেশি সময় ভিজিটর্স দের সেই পেজে সংযুক্ত করে রাখা সম্ভব। এবং একটি ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট কে কমিয়ে রাখার ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া কার্যকর হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

একটি image বা text content এর তুলনায়, video content যেকোনো ভিসিটর এর অধিক মনোযোগ আকৃষ্ট করে।

তাই আর্টিকেলে Video embed করলে, bounce rate অবশই কম থাকবে।

১৪। Table of contents এর ব্যবহার

বড় আর্টিকেলে Table of contents এর মাধ্যমে ভিজিটরদের আকর্ষিত করতে পারি এবং আমাদের সম্পূর্ণ আর্টিকেলের একটি ছোট পরিচয় (quick introduction) প্রথমেই দিয়ে দিতে পারি। বিশ্বাস করুন, এই মাধ্যমে ৬০% পাঠক দের বেশ কিছু সময়ের জন্য আর্টিকেলে ধরে রাখা সম্ভব।

যদি আপনি ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করছেন, তাহলে প্রচুর plugin রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে আর্টিকেলে table of content ব্যবহার করতে পারবেন।

১৫। আর্টিকেলে প্রচুর শব্দের ব্যবহার

আপনি আর্টিকেলে যতো কম শব্দের ব্যবহার করে সেটা লিখবেন, ভিসিটর্স রা ততটাই তাড়াতাড়ি সেটা পড়ে শেষ করবেন।

তাই, যেকোনো বিষয়ে যখন আর্টিকেল লিখবেন, সেটা চেষ্টা করবেন ১৫০০ থেকে ২৫০০ শব্দের ভেতরে লেখার।

এতে, আপনার দুটো লাভ হবে।

  • গুগলের কাছে আর্টিকেলটির কোয়ালিটি ভালো থাকবে।
  • ঐ বিষয়ের সাথে জড়িত বিস্তারিত তথ্য আর্টিকেলে যোগ করতে পারবেন।

তাছাড়া, আর্টিকেলে অধিক শব্দের ব্যবহার করার ফলে, পাঠক সেই কনটেন্ট অধিক সময় ধরে পড়বেন। আর তাই, কনটেন্ট পড়ার ক্ষেত্রে সে আপনার ওয়েব পেজে অধিক সময় থাকতে হবে।

এর ফলে, বাউন্স রেট বৃদ্ধি পাওয়ার বিপরীতে প্রচুর কমে যাওয়ার সুযোগ হয়ে দাঁড়াবে।আবন

১৬। উল্টাপাল্টা জায়গায় ব্যাক লিঙ্ক

প্রথমে যেটা বলব উল্টাপাল্টা সাইটে ব্যাক লিঙ্ক করবেন না। আপনার সাইট এর বাউন্স রেট বাড়ার জন্য এটি অনেক বড় অংশে দায়ী। যদি ব্যাক লিঙ্ক করেন তাহলে রিলিভেন্ট জায়গায় ব্যাক লিঙ্ক করবেন। ব্যাক লিঙ্ক করার আগে যে জিনিস টা মনে রাখবেন সেটা হল আপনার সাইট সে বিষয় এ সেই বিষয় সম্পর্কিত সাইট ব্যাক লিঙ্ক করার চেষ্টা করবেন। এতে যেমন আপনার সাইট এর বাউন্স রেট বাড়বে এবং গুগলেও পেনাল্টি খাবেন না।

আরও পড়ুনঃ ব্যাকলিঙ্ক তৈরীর করার এক্সপার্ট টিপস। ব্যাকলিংক বা লিংক বিল্ডিং

উপরোক্ত বিষয়গুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করতে পারলে আপনি আপনার সাইটের বাউন্স রেট কমাতে পারবেন আশা করি।

শেষ কথা,

আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা জানলাম “ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট মানে কি” (what is bounce rate in Bangla).

তাছাড়া, বাউন্স রেট কম রাখার কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম গুলো নিয়েও আমরা আলোচনা করলাম।

বন্ধুরা, bounce rate অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যদি আপনারা গুগল সার্চ থেকে ফ্রি অর্গানিক সার্চ ট্রাফিক পেতে চান তাহলে আশা করি আর্টিকেলটি আপনাকে সাহায্য করবে।

যেহেতু আপনি শেষ পর্যন্ত আর্টিকেলটি পড়েছেন তাই আমি আশা করতে পারি ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট কিভাবে কমানো যায় এ সম্পর্কিত আর্টিকেলটি আপনাদের কাছে ভালো লেগেছে। এ ব্যাপারে আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্টবক্সে জানাতে পারেন।

Recommended For You

About the Author: Techohelp

"Techohelp" একটি টিউটরিয়াল ভিত্তিক বাংলায় ব্লগ। যারা কম্পিউটার, ইন্টারনেট, ওয়েবসাইট এবং অনলাইন প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে চান তাদের জন্য Techohelp একটি দারুন প্লাটফরম। অনলাইনে ইনকাম বা ফ্রিলাঞ্চিং বিষয়ে জানতে ও শিখতে আগ্রহিদের কথা মাথায় রেখে, ওয়েবসাইটের সকল কন্টেন্ট এমন ভাবে লেখা হয় যেন আপনি নিজেই ঘরে বসে নিজের মতন সহজে শিখতে পারেন। ফেসবুকে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুনঃ https://www.facebook.com/Techohelp/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *