কারও কম্পিউটারে প্রবেশ করুন রিমোর্টলি| ডেস্কটপ শেয়ারিং সফটওয়্যার‬ টিমভিউয়ার

ডেস্কটপ শেয়ারিং সফটওয়্যার‬ টিমভিউয়ার

Table of Contents

টিমভিউয়ার কী? এটি কীভাবে কাজ করে?

টিম ভিউয়ার ( Team Viewer ) হল ইন্টারনেট বেইস P2P ও ডেস্কটপ শেয়ারিং সফটওয়্যার‬। যা দিয়ে  পৃথিবীর এক প্রান্তে বসে আরেক প্রান্তে থাকা যেকোন কম্পিউটার সহজে পরিচালনা করা যায়। কম্পিউটারের সামনে বসে আপনি যা করতে পারেন তা এই টিম ভিউয়ার দিয়ে কানেক্ট করার মধ্য দিয়ে কম্পিউটারের সামনে না বসেও তা করতে পারবেন। অর্থাৎ এখন থেকে আপনি পৃথিবী যেখানে থাকুন না কেন আপনার অথবা অন্য যে কোন ল্যাপটপ, কম্পিউটারের কন্ট্রোল আপনার মধ্যে থাকবে। এছাড়া্ও টিম ভিউয়ার এর সাহায্যে আপনি আপনার পিসি হতে অন্য পিসিতে খুব সহজেই রিমোট এক্সেস সহ ফাইল শেয়ারিং করতে পারবেন। এছাড়া বাড়তি সুবিধা হিসেবে চ্যাটিং তো থাকছেই। এটি চালানোর সময় আপনার মনে হবে যে আপনি আপনার পিসিটিই চালাচ্ছেন। তবে মনে রাখবেন নেট কানেকশন ছাড়া এসব সুবিধা সম্ভব নয়।

যে কম্পিউটার থেকে কন্ট্রোল করতে চান এবং যে কম্পিউটারটিকে কন্ট্রোল করতে চান, দুইটি কম্পিউটারেই টিমভিউয়ার ইন্সটল করা থাকতে হবে এবং ইন্টারনেট কানেশন অন করা থাকতে হবে। সেই সাথে জানতে হবে ইউজার আইডি ও পিন কোড।

এটি মূলত ফ্রি সফটওয়্যার, ব্যাক্তিগত ব্যাবহারের জন্য কোন টাকা খরচ করতে হবে না। তবে বিশেষ কিছু ফিচার এবং কমার্শিয়াল কাজে ব্যাবহারের জন্য বিভিন্ন ফিচার অনুযায়ী, মাসিক বা বাৎসরিক মেয়াদে কিছু অর্থ ব্যয় করতে হবে।

টিমভিউয়ার(Teamviewer) দিয়ে যা যা করতে পারবেনঃ  

অনলাইনে শেখা ও শিখানোর কাজে:

আমরা বর্তমানে অনলাইন থেকে অনেক কিছু শিখতে পারি বা শিখছি। আর এই কাজ টা করার জন্য বা বন্ধুকে দিয়ে শিখে নেয়ার জন্য টিমভিউয়ার এর বিকল্প নেই। আপনার বন্ধু থাকে প্রবাসে বা অন্য শহরে। আপনার বন্ধু কম্পিউটারে খুব বেশী দক্ষ না। আপনি আপনার বন্ধুকে কিছু শেখাতে চান বা তার কম্পিউটারের কিছু কাজ করে দিতে চান। কিন্তু দুজন হাজার কিলোমিটার দুরে থেকে কিভাবে এটা সম্ভব। টিমভিউয়ার সফটওয়্যারের মাধ্যমে আপনি আপনার বন্ধুর কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারবেন, ফলে আপনি তাকে যেমন কিছু শেখাতে পারবেন তেমনই তার বিভিন্ন কাজও করে দিতে পারবেন। টিম ভিউয়ার স্থানের দূরত্ব ঘুচিয়ে আপনার বন্ধু অন্য জেলায় কিংবা দেশের বাইরে থাকলেও জরুরি পরিস্থতিতে সমস্যার সমাধান করে দিতে পারবে।

অনলাইনে কম্পিউটার মেরামত করার কাজে:

ধরুন আপনার কম্পিউটারে সমস্যা হয়েছে কিংবা কোনো সফটওয়্যার ঠিকমত কাজ করছে না। অথচ রাত গভীর হওয়ায় টেকনিশিয়ান বা এক্সপার্ট কোনো বন্ধুরও আসার সুযোগ নেই। এ জন্য জরুরিভিত্তিতে কারো সাহায্য প্রয়োজন। এমন পরিস্থিতিতে কোন কম্পিউটার এক্সপার্ট এর সাহায্য নিতে পারেন এই সফটওয়্যারটির মাধ্যমে।

এক/একাধিক কম্পিউটার পরিচালনার জন্য:

মনে করেন আপনার এক/একাধিক পিসি আছে। কোন কারনে আপনি বাইরে যাবেন । আপনার কম্পিউটারে দরকারি কোন কিছু ডাউনলোড হচ্ছে তা শেষ না হওয়া বাইরে যেতে পারছেন না। সেই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে টিমভিউয়ার এর গুরুত্ব বলে শেষ করা যাবে না। এখন আপনার মনে আরেকটা প্রশ্ন জাগতে পারে আমি কি সারা দিন ল্যাপটপ অথবা ডেস্কটপ নিয়ে গুরব নাকি! তা ঠিক আর চাইলে ও তা সম্ভব না! না আপনাকে সারাদিন এই বোজা নিয়ে ঘুরতে হবে না! আমরা সবাই মোটামুটি একটা স্মার্টফোন ইউস করি! এখন কথা হল সব স্মার্টফোনে তো আর টিমভিউয়ার সাফোর্ট করে না! তা ঠিক সাপোর্ট করে এই রকম একটা স্মার্টফোন কিন্তু থাকা লাগবে না হলে কিন্তু আমার টিউন পরে আপনি পরীক্ষা করতে পারবেন না আসলে এর গুরুত্ব কি! তবে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন হচ্ছে যে, বর্তমানে বাংলাদেশ মোটামুটি কম মুল্যে একটা এন্ড্রয়েড ফোন হলেই চলবে! আর যাদের দামি দামি স্মার্টফোন আছে তাদের তো আর বলাই লাগবে না! আর এই স্মার্টফোন দিয়েই আপনি আপনার যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।

রিমোট কন্ট্রোলের জন্যঃ

টিমভিউয়ার এমন একটি সফটওয়্যার যেটি ব্যবহার করে একটি কম্পিউটার থেকে অন্য যে কোন কম্পিউটারে প্রবেশ করা যায়। এর সাহায্য দূর থেকে একটি কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম কন্ট্রোল, ডেস্কটপ শেয়ারিং, অনলাইন মিটিং, ফাইল ট্রান্সফার এবং ওয়েব কনফারেন্সিং করা যায়।

এটি মূলত একটি কম্পিউটারের স্ক্রিন অন্য আরেকটি কম্পিউটারে সেন্ড করে সেখান থেকে কমান্ড গ্রহণ করে। অর্থাৎ একই সাথে এটি ডেস্কটপ শেয়ারিং এবং রিমোটলি কট্রোলিং সিস্টেম ব্যবহার করে আপনাকে নির্দিষ্ট কম্পিউটারে প্রবেশ করতে দেয়। রিমোর্টলি কোন কম্পিউটারে কাট, কপি, পেস্ট ও ডিলিট সবই করতে পারবেন।

ফাইল শেয়ারিং বা ট্রানস্ফার এর জন্যঃ

যারা ল্যাপটপ অথবা এন্ড্রয়েড/উইন্ডোজ ফোন ইউস করি তারা সাধারনত ওয়াফাই এর মাধ্যমে ফাইল ট্রান্সফার করি। আর এই ট্রান্সফার কে আরো শক্তিশালি করার জন্য অনেক ডেভেলপার তৈরি করেছে সফটওয়ার। আমার থেকে যেটা সবচেয়ে ভাল লাগে তা হল ShareIT. এটা প্রায় সব ফ্লাটফর্মে চলে।

কিন্তু এভাবে শুধুমাত্র আপনার পিসি/মোবাইল অথবা বন্ধুর মোবাইল/পিসি নির্দিষ্ট এরিয়া তে থাকলে আপনি ফাইল শেয়ার করতে পারবেন। কিন্তু যখন বন্ধু আপনার কাছাকাছি থাকবে না বা আপনার পিসি/ল্যাপটপ আপনার কাছাকাছি থাকবেন তখন কি করবেন?? হ্যা, ঐ সময় আপনার সাথী/বন্ধু হিসেবে কাজ করবে টিমভিউয়ার! মানে আপনি চাইলে ফাইল ও শেয়ার করতে পারবেন। আর আপনি যদি একই সার্ভারে নেট ইউস করে থাকেন তাহলে পাবেন সুপার স্পীড।

আবার মনে করুন, অফিসের জরুরি কোনো ফাইল বাসার ডেস্কটপ বা ল্যাপটপে রয়ে গেছে। সেটি মোবাইল ডিভাইসে নিতে ভুলে গেছেন। এমন ক্ষেত্রেও অফিসে বসে বাসার ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ থেকে সেই ফাইলটি নিয়ে নিতে পারবেন।

ভিডিও streaming করার জন্যঃ

আপনি চাইলে সফটওয়্যারটির মাধ্যমে আপনার কম্পিউটারে যত ভিডিও , মুভি আছে সব মোবাইলে অথবা অন্য কোন পিসিতে সরাসরি স্ট্রেমিং করতে পারবেন । তবে ইন্টারনেট গতি বেশ ভাল থাকতে হবে। ব্রডব্যান্ড কানেকশন অথবা ভাল স্পীডের নেট ছাড়া এটা সম্ভব নয়।

TeamViewer (টিম ভিউয়ার) ডাউনলোড লিঙ্ক:

শুধুমাত্র কম্পিউটার থেকে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং আপনার আইফোন কিংবা অ্যান্ড্রয়েড ফোন থেকেও যে কোন কম্পিউটারে প্রবেশ করে সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। প্লেস্টোর বা অ্যাপস্টোরে টিমভিউয়ার নিয়ে সার্চ দিলেই অ্যাপটি পেয়ে যাবেন।

উন্ডোজ পিসি ও ল্যাপটপের জন্য এখানে ক্লিক করুন

এন্ড্রয়েডের জন্য এখনে ক্লিক করুন

আইফোনের জন্য এখানে ক্লিক করুন

উইন্ডোজ ফোনের জন্য এখানে ক্লিক করুন

টিমভিউয়ার ইন্সটল করার পদ্ধতি

১। টিমভিউয়ার এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট কিংবা দেওয়া লিঙ্ক থেকে সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করুন। তারপর ডাউনলোড করা ফাইটি ডাবল ক্লিক করে ইনস্টল করুন।

২।এখানে গিয়ে সবুজ বাটনে লেখা Download For Free তে ক্লিক করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সফটওয়্যারটি আপনার অপারেটিং সিস্টেম সিস্টেম অনুযায়ী ডাউনলোড হওয়া শুরু করবে।

৩। তবে চাইলে মেনুয়ালিও অপারেটিং সিস্টেম সিলেক্ট করে ডাউনলোড করতে পারবেন। যাইহোক, টিমভিউয়ার ডাউনলোড হয়ে গেলে ফাইলটিতে ডাবল ক্লিক করুন।

৪। ইন্সটলেশন উইন্ডো ওপেন হলে, সেখান থেকে Basic Installations বা Installations to access this computer remotely (unattended) এর যে কোন একটি এবং Personal/Non-commercial use অপশনটিতে ক্লিক করুন।

৫। এবারে Accept & Finish বাটনটিতে ক্লিক করে ইন্সটলেশন শেষ করুন, ইন্সটল হয়ে গেলে সফটওয়্যারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওপেন হবে।

TeamViewer (টিম ভিউয়ার) ব্যবহার পদ্ধতি

টিমভিউয়ার ব্যবহার করে যে কোন কম্পিউটারে প্রবেশ করবেন যেভাবে

টিমভিউয়ার ওপেন হলে দুইটি উইন্ডো দেখতে পাবেন, একটি সফটওয়্যারটির মূল ইন্টারফেস; দ্বিতীয়টি সাইন-আপ উইন্ডো। ইচ্ছা করলে সাইন-আপ না করেই সফটওয়্যারটি ব্যবহার করতে পারবেন। তবে সাইন-আপ করলে পারসোনাল পাসওয়ার্ড সেটাপ সহ আরও বেশ কিছু সুবিধা এবং সাইন-আপ উইন্ডোটিতে বেশ কিছু তথ্য দেখতে পাবেন। এখন আপনার সামনে মেইন যে ইন্টারফেসটি এসেছে, সেটি ব্যবহার করেই আপনি ডেক্সটপ শেয়ারিং এবং রিমোটলি O.S কন্ট্রোল করতে পারবেন।

অন্য কোন কম্পিউটার থেকে আপনার কম্পিউটারের ডেস্কটপ শেয়ার করতে চাইলে:

মেইন ইন্টারফেস উইন্ডোর বাম পাশের সেকশনটি ব্যবহার করে ডেস্কটপ শেয়ারিং করা যাবে।

১। এখানে Allow Remote Control লেখাটির একটু নিচেই Your ID এবং Password লেখা দুইটি বক্সে কিছু সংখ্যা আর অক্ষর দেখতে পাবেন।

২। যে কম্পিউটার থেকে আপনার কম্পিউটার ব্যবহার করতে চান, সেটির টিমভিউয়ারের নির্দিষ্ট জায়গায় এই ID আর পাসওয়ার্ড ইনপুট করুন। নিচের প্যারাগ্রাফে এটি নিয়ে বিস্তারিত রয়েছে।

৩। ইনপুটের পর লগ ইন করলেই ঐ কম্পিটার থেকে আপনি আপনার কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারবেন। অর্থাৎ, এই আইডি এবং পাসওয়ার্ড শেয়ারিং এর মাধ্যমেই আপনি সফলভাবে আপনার ডেস্কটপ অন্য একটি কম্পিউটারে শেয়ার করতে পারবেন এবং নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন সেখান থেকে।

তবে উল্লেখ্য যে, এখানে থাকা Your ID অর্থাৎ আপনার কম্পিউটারের আইডিটি ফিক্সড হলেও  পাসওয়ার্ডটি ফিক্সড নয়। প্রতিবার ব্যবহারের পরই এটি র‍্যান্ডমলি পরিবর্তণ হয়ে যাবে। যার অর্থ প্রত্যেকবার ডেক্সটপ শেয়ারিং এর আগে নতুন পাসওয়ার্ডটি জেনে নিতে হবে।

তবে, এই র‍্যান্ডম পাসওয়ার্ড এর বিকল্প ব্যবস্থাও রয়েছে। আপনি ইচ্ছে করলেই সাইন-আপ করে পারসোনাল পাসওয়ার্ড সেট করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে আপনি আইডি আর র‍্যান্ডম পাসওয়ার্ড বা পারসোনাল পাসওয়ার্ড এর যে কোন একটি দিয়েই লগ ইন করতে পারবেন।

আপনার কম্পিউটার থেকে অন্য কারো কম্পিউটারে প্রবেশ করতে চাইলে বা রিমোটলি কন্ট্রোলিংঃ

এটা করার জন্য আপনাকে মেইন ইন্টারফেস উইন্ডোটির ডান পাশের সেকশনটি ব্যবহার করতে হবে।

১। এখানে Partner ID লেখাটির নিচেই আইডি লেখার জন্য একটি বক্স রয়েছে, সেটি প্রথমে যে কম্পিউটারে প্রবেশ করতে চান সেই কম্পিউটারের আইডি লিখতে হবে।

২। এবার নিচে দুইটি অপশন দেখতে পাবেন, Remote control এবং File transfer. বুঝতেই পারছেন শুধু ফাইল ট্রান্সফারের জন্য দ্বিতীয় অপশনটি, আপাতত এটি আমাদের দরকার নেই। যেহেতু আপনি আপনার বন্ধুর কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ করবেন তাই আপনার বন্ধুর কাছ থেকে এসএমএস, ফোন, মোবাইল, ম্যাসেজ (চ্যাট) বা ইমেইলের মাধ্যমে তার টিমভিউয়ারের ID এবং Password জেনে নিন। এখন আপনার টিমভিউয়ারের (Remote Support নির্বাচন রেখে) Partner Details এর ID অংশে আপনার বন্ধুর দেওয়া আইডি লিখে Connect Partner বাটনে ক্লিক করুন।

৩। অপশন সিলেক্ট করার পর এবার Connect to partner লেখা বাটনটি উপর ক্লিক করুন।

৪। ক্লিক করার পর বাটনে লেখা পরিবর্তণ হয়ে সেখানে Abort Connection লেখা আসবে এবং একটু পরেই পাসওয়ার্ড দেওয়ার জন্য একটি পপ-আপ উইন্ডো ওপেন হবে।

৫। এখানে আপনি যে কম্পিউটারে প্রবেশ করতে চান সেই কম্পিউটারের টিমভিউয়ার এ রান্ডম পাসওয়ার্ডটি জেনে নিয়ে এখানে দিয়ে দিন। যদি আপনি সেই কম্পিউটারের টিমভিউয়ারের পারসোনাল পাসওয়ার্ডটি জানেন, তাহলে সেটিও দিতে পারেন। পাসওয়ার্ড দেওয়া হলে এবার লগ-ইন বাটনে ক্লিক করুন।

৬। তাহলে সফটওয়্যার ইন্টারনেটের মাধ্যমে অপর প্রান্তের কম্পিউটারের টিম ভিউয়ারের সাথে যুক্ত হবে। কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। মূলত এই কাজের জন্য ইন্টারনেট গতি ভালো হতে হবে। কিছুসময়ের পর স্ক্রিনে অপার প্রান্তের কম্পিউটারের ডেস্কটপ দেখা যাবে। এবং এখান থেকে আপনি সেই কম্পিউটারের যাবতীয় নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

এখন আপনি আপনার কম্পিউটারের ডেস্কটপে বসেই আপনার বন্ধুর কম্পিউটারের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ (ফাইল/ফোল্ডার তৈরী, ডিলিট করা, টাইপ করা, সফটওয়্যার ইনষ্টল করা, ডাউনলোড করা, গান দেখা ইত্যাদি) করতে পারবেন। এছাড়াও Filetransfer থেকে সংযোগ নিলে আপনার নিজের কম্পিউটারের ফাইল আপনার বন্ধুর কম্পিউটারের মধ্যে ফাইল/ফোল্ডার আদান প্রদান করতে পারবেন।

টিমভিউয়ার হ্যাক হয়েছে কি না পরীক্ষা করুন

দূর থেকে কম্পিউটার সিস্টেমে লগইন করার সফটওয়্যার হিসেবে পরিচিত টিমভিউয়ার। তাই যারা এ সফটওয়্যার ব্যবহার করেন, তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখা উচিত। টিমভিউয়ার ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট হ্যাকের মাধ্যমে তাদের পিসির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ক্ষতিকর ভাইরাস ইনস্টল, অর্থ দাবির মতো ঘটনা ঘটতে পারে। টিমভিউয়ার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার প্রধান কারন ব্যবহারকারীদের দুর্বল পাসওয়ার্ড সেট  করা। একই পাসওয়ার্ড বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে দেওয়ার কারণে এ ধরনের হ্যাকিংয়ের শিকার হতে হচ্ছে টিমভিউয়ার ব্যবহারকারীদের।

যেভাবে বুঝবেন আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে

১। টুল কিট থেকে ওপেন লগফাইল বাটনে যান। সেখানে কানেকশনফার্স্ট নামের ফাইল খুলুন।
২। সেখানে নিজের আইপি বাদে অন্য কোনো আইপি থেকে লগইন করা আছে কি না, পরীক্ষা করে দেখুন। গুগলের সার্চ থেকে নিজের আইপি খুঁজে পাবেন।

টিম ভিউয়ার হ্যাক হলে করনিয়
১. টিমভিউয়ার সাপোর্ট টিমকে জানান।
২. পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন। জটিল পাসওয়ার্ড তৈরি করে ব্যবহার করুন।
৩. কম্পিউটারে ম্যালওয়্যার স্ক্যান করুন। এরপর Extras > Options > Security > Personal password গিয়ে পাসওয়ার্ড বদলে নিন।
৪. টু-স্টেপ অথেনটিকেশন চালু করুন। login. teamviewer. com গিয়ে টিমভিউয়ারে লগইন করুন। এরপর Edit profile > General> Activate link > Two factor authentication-এ গিয়ে এ পদ্ধতি চালুর পর সেভ দিন।
৪. আপনার ইউজার অপশন পরিবর্তন করে কম্পিউটার লক করুন। AdvancedOptions > Connections-এ যান। সেটিংস বদলে ফেলুন। আপনার সংযোগ আরও নিরাপদ করতে নির্দিষ্ট টিমভিউয়ার আইডি ঠিক করে দিতে কিংবা নেটওয়ার্কের বাইরের সংযোগ বন্ধ করে দিতে পারেন।
৫. অন্য কোনো অ্যাকাউন্টের সঙ্গে টিমভিউয়ারের অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড একই রকম রাখা ঠিক হবে না।

সফটওয়্যার বিষয়ক লেখাটির দ্বারা আশা করছি আপনার উপকৃত হবেন। কমেন্টে আপনার সেই প্রশ্ন বা মন্তব্যটি জানানোর জন্য অনুরোধ করছি, যতটুকু সম্ভব সাহায্য করব।

Recommended For You

About the Author: Techohelp

"Techohelp" একটি টিউটরিয়াল ভিত্তিক বাংলায় ব্লগ। যারা কম্পিউটার, ইন্টারনেট, ওয়েবসাইট এবং অনলাইন প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে চান তাদের জন্য Techohelp একটি দারুন প্লাটফরম। অনলাইনে ইনকাম বা ফ্রিলাঞ্চিং বিষয়ে জানতে ও শিখতে আগ্রহিদের কথা মাথায় রেখে, ওয়েবসাইটের সকল কন্টেন্ট এমন ভাবে লেখা হয় যেন আপনি নিজেই ঘরে বসে নিজের মতন সহজে শিখতে পারেন। ফেসবুকে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুনঃ https://www.facebook.com/Techohelp/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *