আপওয়ার্ক অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড হওয়ার কারণ ও প্রতিকার

আপওয়ার্ক অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড হওয়ার কারণ ও প্রতিকার

আপওয়ার্ক অ্যাকাউন্ট ব্যান হওয়ার কারণ: আপওয়ার্ক অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড হওয়ার বহু কারন রয়েছে। আপওয়ার্ক অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের নিম্নোক্ত বিষয় সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে, তাহলে অনাকাঙ্খিত অ্যাকাউন্ট ব্যান বা সাসপেন্ড বা হোল্ডস থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। আপওয়ার্ক অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড হওয়া খুবই দুশ্চিন্তার কারণ।

১। একেই কম্পিউটার থেকে একাধিক অ্যাকাউন্ট খোলা: একই কম্পিউটার বা আইপি থেকে একাধিক আপওয়ার্ক অ্যাকাউন্ট তৈরি করা আপওয়ার্ক অ্যাকাউন্ট ব্যানড হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ, তবে এটি সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। অনেক ফ্রীল্যান্সারের ভুল ধারণা আছে যে একই ল্যাপটপ বা কম্পিউটার থেকে একাধিক আপওয়ার্ক একাউন্ট খুললে কিংবা লগিন করলে আপওয়ার্ক একাউন্ট ব্যান করে দেয়। মুলত একই আইপি কিংবা একই কম্পিউটার বা একই ইন্টারনেট কানেকশন থেকে একাধিক লোক কাজ করলে অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড করে না। তবে এক্ষেত্রে আইডি ভেরিফিকেশন করে নিলে সমস্যা হবে না।
ধরুন আপনি এবং আপনার স্ত্রী উভয় আপওর্য়াকে কাজ করেন। আপনি যখন অফিসে থাকেন, আপনার স্ত্রী আপনার কম্পিউটার থেকে কাজ করতে পারবে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু যদি একই ব্রাউজার থেকে আপনার একাউন্ট লগআউট না করে আপনার স্ত্রীর এ্যাকাউন্ট ওপেন করা হয়। তখন ব্যান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অথবা যদি পর পর দুইটা একাউন্ট কোন ব্রাউজারে সেভ বা রিমেম্বার করা থাকে। একই পিসি থেকে দুটি একাউন্ট একই সময় লগিন অবস্থায় রাখতে পারবেন না। একটা লগআউট করে অন্যটা লগিন করতে হবে। ট্রাইমট্রাকার থেকেও অবশ্যই লগআউট করতে হবে। প্রয়োজনে নতুন একাউন্ট এ লগিন করার আগে ব্রাউজার ক্যাশে এবং কুকিজ ক্লিয়ার (Ctr+Shift+Del) করে নিবেন।

২। প্রোফাইল কপি করা: একজন ভালো প্রফেশনাল ব্যাক্তি কখনই অন্যের প্রোফাইল নকল করতে চাইবেন না। অন্য কাউকে অনুসরণ করতে পারেন কিন্তু অনুকরণ নয়। কিন্তু অনেককে দেখা যায় অন্য কারো আপওয়ার্ক প্রোফাইল পুরোপুরি নকল করেন। আপনি যখন কোন কনট্রাক্টর-এর প্রোফাইল এ রাখা কনটেন্টগুলো নিজের প্রোফাইলে কপি করবেন সেগুলো কোন না কোন সময় কারো না কারো চোখে পড়বে। পাশাপাশি আপওয়ার্ক কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব প্রযুক্তির মাধ্যমে বিষয়টি সনাক্ত করতে পারে। আর হুবহু মিল পেলে আপওয়ার্ক থেকে আপনার আ্যাকাউন্ট ব্যান করতে পারে।

৩। পোর্টফোলিও আইটেম চুরি: পোর্টফলিও বলতে আমরা বুঝি আগে করা কাজগুলোর আর্কাইভ। আপনি যদি কারো কাজের আইটেম চুরি করে নিজের বলে চালিয়ে দেন সেটা ঘৃন্য অপরাধ। অনেক নতুন কনট্রাক্টররা ভালো মানের আইটেম অন্য কোন কনট্রাক্টর এর প্রোফাইল থেলে কপি করে নিজের পোর্টফলিওতে বসিয়ে দেন। উদাহরণস্বরূপ যখন কেউ আপওয়ার্ক অ্যাকাউন্ট খুলে তখন তাকে ১০০ ভাগ প্রোফাইল কমপ্লিট করতে বলা হয়। নতুন কনট্রাক্টরদের প্রোফাইল ১০০ ভাগ পূর্ণ করার জন্য অন্যের আইটেম চুরি করতে দেখা যায়। এ রকম না করে নিজে কোন ডেমো কাজ করে অন্তত নিজের একটাই দিন। অন্যেরটা দেয়া মানে আপনি কাজ জানেন না, জানলে নিজে না করে চুরি করবেন কেনো?

৪। কাভার লেটার স্পামিংঃ আপওয়ার্ক অ্যাকাউন্ট ব্যান হওয়ার আরেকটি বড় কারণ কাভার লেটার স্প্যামিং, যেটির কারণ মূলত কপি পেস্ট। অন্যের কাভার লেটার তো কপি করবেনই না, বরং নিজের কাভার লেটারও বারংবার কপি না করে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে লিখুন। আমাদের মধ্যে এক ধরনের অলসপ্রবণতা কাজ করে; আবার সেটা ইংরেজি ভাষায় দূর্বলতার জন্যও হতে পারে। নিচে এ নিয়ে একটু বিস্তারিত লিখলাম:
প্রত্যেকটা জব পোস্টে ক্লায়েন্ট যেমন ভিন্ন থাকে তেমন তাদের রিকোয়ারমেন্টও আলাদা থাকে। অনেকে ব্লগে বা অন্য কোথাও থেকে অথবা নির্দিষ্ট একটা কাভার লেটার বানিয়ে রাখেন। তারপর সেটাই সব জায়গায় চালিয়ে দেন। মনে রাখবেন প্রত্যেকটা প্রশ্নের যেমন আলাদা উত্তর থাকবে তেমনি প্রতিটা জবের রিকোয়ারমেন্ট অনুযায়ী কাভার লেটারও ভিন্ন হবে।
বিভিন্ন ব্লগ বা ওয়েবসাইটে আপনি অনেক আইডিয়া বা স্যাম্পল পাবেন কাভার লেটার নিয়ে। আপনি সেগুলো দেখে ক্লায়েন্টের চাহিদা অনুযায়ী নিজেরটা তৈরি করে নিবেন। ভুলেও সেগুলো কপি করে চালিয়ে দিবেন না। কাজতো পাবেনই না বরঞ্চ বাজে ক্লায়েন্ট হলে আপনার নামে আপওয়ার্ক-এর কাছে রিপোর্ট দিবে ।

সাধারণত কাভার লেটার যেমন হয়ে থাকে-
Hi/Dear + ক্লায়েন্ট এর নাম/Hiring Manager,
আপনার সম্পর্কে কিছু আর জবের রিকোয়ারমেন্ট অনুযায়ী কিছু প্রশ্ন
শেষে আপনার নাম, যেমন:
Best Regards
Sumon

৫। কন্টাক্ট ইনফরমেশন শেয়ার: আপওয়ার্ক পলিসিতে বলা আছে মার্কেটপ্লেসে কোন ধরনের কন্টাক্ট ইনফরমেশন শেয়ার করা যাবে না। নিজের ইমেইল আইডি, স্কাইপি আইডি, মোবাইল নং কিংবা যোগাযোগের অন্য কোন মাধ্যম ক্লায়েন্ট এর সাথে শেয়ার করবেন না এবং আপওয়ার্ক ছাড়া অন্য কোন মাধ্যমে পেমেন্ট নিতেও রাজি হবেন না। কন্টাক্ট ইনফরমেশন দিলে আপনার অ্যাকাউন্ট ব্যান হয়ে যাবে এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। কাভার লেটারে কোন প্রকার কন্টাক্ট ইনফরমেশন দিবেন না। শুধুমাত্র আপওয়ার্ক ম্যাসাজিং এর মাধ্যমে সব কিছু ম্যানেজ করতে হবে। কিন্তু অনেক ক্লায়েন্ট জব পোষ্টে বলে দেয় স্কাইপ আইডি দিতে। সাধারনত তারা পুরো পলিসি না বুঝেই জবটা পোস্ট করে থাকে। আবার কিছু দিক বিবেচনা করলে দেখা যায় স্কাইপের মাধ্যমে যোগাযোগ ছাড়া জব এগিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। সেক্ষেত্রে আপনি ইহা কৌশলে এড়িয়ে যান। ক্লায়েন্টকে বলুন আপনার স্কাইপ আইডি আছে কিন্তু আপওয়ার্ক পলিসি কোন কন্টাক্ট ইনফরমেশন শেয়ার করতে বলে না। যদি ক্লায়েন্ট আপনার প্রতি ইন্টারেস্টেড হয় তাহলে সে নিশ্চিত ভাবে আপনার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করবে। সে যদি চায় তাহলে আপনি দিতে পারনে কিন্তু তা ম্যাসেজ-এ দিবেন এবং যত ফিন্যান্সিয়াল ডিল হবে তা ১০০ ভাগ আপওয়ার্কের মাধম্যেই করবেন অন্য কোথাও নয়। আপওয়ার্ক এই কন্টাক্ট ইনফরমেশন শেয়ার করার জন্য আপনাকে জবাবদিহি করতে বললে তখন আপনি বলবেন ক্লায়েন্টের যোগাযোগের সুবিধার্থেই আপনি তাকে কন্টাক্ট ইনফরমেশন দিয়েছেন এবং যত কিছুই লেনদেন হয়েছে তা আপওয়ার্কের বাইরে নয়।

৬। বেশি ম্যানুয়াল আওয়ার যোগ করা: আপনার ক্লায়েন্ট নতুন অথবা কাজ দেয়ার পর কোন কারনে Hourly Limit সেট করে নাই, আপনি সেই সুযোগের ফায়দা উঠালেন। ট্র্যাকার দ্বারা কাজের সময় গুলো ট্র্যাক না করে নিজের ইচ্ছা মত বসিয়ে দিলেন Manual Hour অ্যাড এর মাধ্যমে। সপ্তাহ শেষে ক্লায়ন্টের কাছে মেইল গেল আপনার সুকর্মের। সব ক্লায়েন্টই আপওয়ার্ক-সাপোর্ট নামে একটা জিনিষ আছে সেটা জানে, তারা ভদ্রভাবে দিল টিকেট ওপেন করে। ডিস্পুট করলে হয়ত আপনার রিফান্ড করার অপশন থাকত কিন্তু এই অসাধু কাজের ফলে আপওয়ার্ক বুঝবে তার মান সম্মান আপনি নষ্ট করছেন। আর শুরু হবে আপনার উপর গজব। আপনি ম্যানুয়ালি করা কাজগুলোর বিল তখনই যোগ করতে পারবেন যখন আপনার ক্লায়েন্টের সাথে আপনার মধুর সম্পর্ক থাকবে।

৭। বায়ারের সাথে খারাপ আচারণ: অ্যাকাউন্ট সাসপেনশানের জন্য কন্ট্রাক্টরদের বিহেভিয়ার বহুলাংশে দায়ী। বায়ার যদি আপনার সাথে কোন ধরনের খারাপ আচারণ করে বা হঠকারীতার আশ্রয় নেয় তাহলে নিজে আ্যকশনে যাবনে না। বায়ারের সাথে কোন রকম বাকবিতন্ডা করবেন না। কারণ বায়ারের নেগেটিভ কমপ্লিমেন্ট আপনার ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই এক্ষেত্রে আপনি বায়ারের সকল উল্টা পাল্টা কর্মকান্ডের স্ক্রীনশট, তথ্য-প্রমাণাদি সংরক্ষন করুন এবং ঠান্ডা মাথায় আপওয়ার্ক কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিন। তাহলে আপওয়ার্কই বায়ারকে ভাল উত্তম মধ্যম দিবে।

৮। কাজ না পাওয়া: মাসের পর মাস প্রচুর কাজে প্রোপজাল পাঠায়ে কোন কাজ না পাওয়া আপওয়ার্ক অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড এরি একটি কারন।

৯। কপি-পেস্ট প্রোপজাল: ক্লায়েন্ট কি চায় সেটা না বুঝেই কাজে একি প্রোপজাল কপি-পেস্ট করে পাঠানো।

১০। আন-কোয়ালিফাইড জবে প্রোপজাল পাঠানো: “Preferred Qualification” এই জায়গাই সবগুলোতে আন-কোয়ালিফাইড হওয়া সত্ত্বেও, সেই সব কাজে বারবার প্রোপজাল পাঠানো। এছাড়াও ৩ বা ৪ জন ক্লায়েন্ট যদি আপনার প্রোপজালে “Flag as inappropriate” দিয়ে থাকে সেক্ষেত্রেও আপনার একাউন্ট সাসপেন্ড করা হতে পারে।

১১। আনস্কীলড জবে প্রোপজাল পাঠানো: আপওয়ার্কে একটা নতুন জব ওপেন হলে, প্রথম এক ঘন্টায় কিছু না হলেও প্রায় ৫০-১০০ প্রোপজাল জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩০-৫০% প্রোপজাল থাকে স্পামারদের। এখানে স্পামার হচ্ছে তারা যারা কোন জব স্কীল না থাকা সত্ত্বেও সেই সব কাজে বারবার প্রোপজাল পাঠায়। এর সহজ মানে হল আপনি আপনার প্রোফাইলে স্কীল দিয়ে রেখেছেন গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে, কিন্তু কাজ না পেয়ে আপনি ঘুরেফিরে ডাটা এন্ট্রি, এসইও, মার্কেটিং বা রাইটিং এর জবে প্রোপজাল পাঠাচ্ছেন। আপওয়ার্ক এক্ষেত্রে ধরে নেয় কাজের স্কিল বা দক্ষতা নেই।

নতুন জব ওপেন হলে বুঝে শুনে বিট করুন। যে কাজের প্রপোজাল দিচ্ছেন, তা পাওয়ার সম্ভাবণা বিচার করুন। ঘন ঘন প্রপোজাল দেয়া থেকে বিরত থাকুন। নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করুন, আপনি যে কাজটির জন্যে প্রপোজাল দিচ্ছেন, সে কাজটি করার জন্যে যে স্কিলগুলোর প্রয়োজন সেগুলো আপনার প্রোফাইলে অ্যাড করা আছে কিনা। অর্থাৎ, আপনার প্রোফাইলে যে স্কিল অ্যাড করা আছে, সে স্কিল রিলেটেড জবগুলোতেই কেবল প্রপোজাল দিন। আপনার যদি প্রোপাইলে অ্যাড করা স্কিলের বাইরে আর কোন স্কিল থাকে, তবে সেটা সার্টিফিকেট অ্যাটাস্ট করে প্রমাণসহ তাদেরকে জানাতে।

১২। দুর্বল আপওয়ার্ক প্রোফাইল: আপওয়ার্ক অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড হওয়ার অন্যতম কারন হল প্রোফাইলে কোন পোর্টফোলিও না থাকা, অন্যের ওভারভিউ কপি-পেস্ট করে মারা, একগাদা স্কীল সেট করে রাখা, এবং কোন স্কীল টেস্টে পাস না করা।

১৩। টানা কম রেটের কাজ করা: আপনি আপওয়ার্কে কাজ করছেন প্রায় ১ বা ২ বছর ধরে এবং প্রায় ১৫-২০টা কাজ করে ফেলেছেন, কিন্তু তেমন উল্লেখযোগ্য কোন কাজ পান নি আর আপনার পুরো প্রোফাইল জুড়ে শুধুই ১, ২, ৫, বা ১০ ডলারের কাজ। এক্ষেত্রে আপওয়ার্ক আপানাকে খুবই দুর্বল স্কীলের ফ্রিলান্সার হিসেবে ধরে নেয় এবং রেড মার্কিং করে রাখবে। আর যদি দুই বা তিনটা যে বড় প্রজেক্টগুলো (মানে নিম্নতম ৫০ বা ১০০ ডলারের কাজ) করেছেন সেগুলোতে বাজে রেটিং পেয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে আপনার একাউন্ট সাসপেন্ড হতে পারে।
আপনাদের বুঝতে হবে আপওয়ার্ক একটা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। আর ওদের ইনকামের জায়গা হল আপনি যে কাজ করছেন সেই কাজ থেকে প্রাপ্ত কমিশন। বাংলাদেশী, পাকিস্তানী ও ফিলিপাইনিদের মধ্যে একটা বড় অংশ খুবই কম রেটে কাজ করে, যেটা আপওয়ার্কের জন্য ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিকর।
ধরুন একটা ছোট কাজের জন্য ক্লায়েন্টের বাজেট ৫০ ডলার। সেই কাজে ইউএস বা ইউরোপীয় ফ্রিলান্সারদের এভারেজ বিড রেট হল প্রায় ৪৫-৫৫ ডলার। কিন্তু আপনি মাত্র ১০ ডলারে বিড করে কাজটা নিয়ে কাজটা করে দিলেন। এটা আপওয়ার্কের জন্য একটা লস প্রজেক্ট কারণ ওই ক্লায়েন্ট ৫০ ডলার খরচ করার জন্য রেডি ছিল। কিন্তু আপনি ১০ ডলারে কাজ শেষ করায় ২০% ফি হিসেবে আপওয়ার্ক কমিশন পেল মাত্র ২ ডলার, কিন্তু কাজটা যদি একজন ইউএস বা ইউরোপীয় ফ্রিলান্সার ৪০ ডলারে করতো তবে আপওয়ার্ক কমিশন পেত ৮ ডলার।

১৪। খুবই কম জব সাকসেস স্কোর: আপনি আপওয়ার্কে কাজ করছেন প্রায় ১ বা ২ বছর ধরে এবং প্রায় ১৫-২০টা কাজ করে ফেলেছেন, কিন্তু আপানার জব সাকসেস স্কোর ৬০% এর নীচে আর বেশীরভাগ কাজেই বাজে ফিডব্যাক রেটিং, সেক্ষেত্রে আপনার একাউন্ট সাসপেন্ড হতে পারে।

১৫। ভুয়া একাউন্ট: আইডি ভেরিফিকেশন না করে, অন্যের নাম ও ছবি দিয়ে একাউন্ট খোলা এবং সেই সব একাউন্ট থেকে বিভিন্ন কাজে প্রোপজাল পাঠানো। বাংলাদেশে বসে ইউএস, কানাডা, বা ইউরোপীয় কোন দেশের নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে একাউন্ট খোলা। এছাড়াও একই পিসি বা ল্যাপটপ থেকে ঘন ঘন ভুয়া ও আসল দুই একাউন্টেই বারবার লগ-ইন করা। একই তথ্য দিয়ে একাধিক একাউন্ট খোলা হয়, তাহলে আপনি যতই পুরাতন আর যতই ফিডব্যাক ভালো হউক না কেন, আপনার একাউন্ট ব্যান করে দিবে।

১৬। ক্লায়েন্টকে আপওয়ার্কের বাইরে কাজ করার অফার: আর এটা করে যদি ধরা খান, সেক্ষেত্রে আপনার একাউন্ট আজীবনের জন্য সাসপেন্ড করা হবে।

১৭। নিম্নমানের কাজ: কনট্রাক্ট নিয়ে ভাল কাজ ডেলিভারী দেয়ার প্রতিশ্রুতি করে, অন্যের কোন লিখা, ডিজাইন, বা কোড কপি-পেস্ট করে সাবমিট করা, খুবই নিম্নমানের কাজ সাবমিট করা অথবা কোন কাজই সাবমিট না করা।

১৮। স্কিল পরিবর্তন : কখনো হঠাৎ করে আপনার স্কিল পরিবর্তন করবেন না। যেমন আপনি ওয়েব ডিজাইন করতেন, হঠাৎ করে ওয়েব ডিজাইন স্ক্রিল সব ডিলিট করে এসইও স্কিল দিলেন। যার কারণে উনার একাউন্ট ব্যান হয়্।

১৯। ফিডব্যাক: বাজে রেটিং পেয়ে ক্লায়েন্টকে বারবার ফিডব্যাক রেটিং চেন্জ করার অনুরোধ করা।
উপরের পয়েন্টগুলো ভালোমতো দেখুন! আমার মনে হয় আপনি এতক্ষণে উত্তর পেয়ে গেছেন আসলে কি কারণে আপনার একাউন্ট সাসপেন্ড হয়েছে।

বায়ারদের অ্যাকাউন্ট সাসপেনশন:

একই সাথে যাদের কন্ট্রাক্টর ও ক্লায়েন্ট অ্যাকাউন্ট আছে তাদের যেকোন একটি অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড হলে অন্যটিও হবে।
বায়ার অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড না হতে নিচের টিপসগুলো মেনে চলুন:
১। আপনারা আপনাদের নিজস্ব কোন টিম মেম্বারকে হায়ার করবেন না। যদি এজেন্সি হয়ে থাকে।

২। ভুয়া পেপাল আইডি পেমেন্ট মেথড হিসেবে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট সাসপেনশন:

বায়ারদের কার্ড অথবা অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকলে কাজ হোল্ড হয়ে যায় এবং কার্ড এ টাকা লোড হওয়া মাত্রই সব কিছু আগের মত ঠিক হয়।
কনট্রাক্টরদের ক্ষেত্রে কোন অনগোয়িং জবে ক্লায়েন্ট এর সাথে যোগাযোগ না রাখলে অথবা কায়েন্ট এর ম্যাসাজের উত্তর না দিলে যদি ক্লায়েন্ট সার্পোর্ট সেন্টারে জানায় তাহলে আপওয়ার্ক টিম কনট্রাক্টর এর ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড করে কিছু দিনের জন্য। যা সাপোর্ট সেন্টারে যোগাযোগ ও কারণ দর্শানোর পর তুলে নেয়া হয়।
আর আপনি যদি ১-২ বছর ধরে আপওয়ার্কে কাজ করার পরও সাসপেন্ড হয়ে থাকেন, তবে সবার প্রথমে ওদের কাস্টমার সাপোর্টে একটা ফর্মাল লেটার লিখুন। কোন প্রকার ঝগড়া বা বাজে মনোভাব না নিয়ে লজিক্যালি আপনার যুক্তিগুলো তুলে ধরে ওদের কাছে রিকোয়েস্ট করুন আপনার সাসপেনশন তুলে নেয়ার জন্য।

আপওয়ার্ক অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড সমস্যার সমাধান

আপনার আপওয়ার্ক একাউন্ট যদি উপরে উল্লেখিত যে কোন একটির কারণে সাসপেন্ড হয়, তবে পরামর্শ হবে ওদের কাস্টমার সাপোর্টে ভুলেও সাথেসাথে যোগাযোগ করবেন না। দয়া করে নীচের পরামর্শগুলো মেনে চলুন।

১। কাজ শিখুনঃ আপওয়ার্ক একটা গ্লোবাল মার্কেটপ্লেস শুধুমাত্র প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সারদের জন্য। এখানে ক্লিক দিয়েই ডলার কামানো যায় না। আপওয়ার্কে কাজ করতে চাইলে আগে ভালো ভাবে প্রফেশনালি কাজ শিখুন। তার পর এ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।

২। স্কীল ডেভেলপ করুন: ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠা কোচিং সেন্টারগুলোর ৩ মাসে হাজার হাজার ডলার কামানোর প্রলোভনে না পড়ে, একটা নির্দিষ্ট বিষয়ে স্কীল ডেভেলপ করুন। ইন্টারনেটে প্রচুর ফ্রি টিউটোরিয়াল আছে সেগুলো নিজে নিজে প্র্যাকটিস করুন। একটা বিষয় মাথার রাখবেন সফল ফ্রিল্যাঞ্চার হতে গেলে আপনাকে সাধনা করতে হবে। আর বাস্তবতা হল আপনার স্কীলকে প্রফেশনাল পর্যায়ে নিয়ে যেতে আপনার কম করে হলেও দুই বছর সময় লাগবে।

৩। ছাড় দিতে শিখুন: কাজ ভালোভাবে শিখার জন্য দরকার হলে, যারা ফ্রিলান্সিং-এ ৪-৫ বছর ধরে সফলতার সাথে কাজ করছে তাদের আন্ডারে ৬ মাস বা ১ বছর ধরে কাজ করুন। তারা যদি এক টাকাও না দেয় সেটা নিয়ে মাথা নষ্ট না করে চুপচাপ কাজ শিখুন। কাজ ভালভাবে শিখতে পারলে আপনি অনেক আয় পারবেন, তাই টাকা নিয়ে শুধু শুধু মাথা নষ্ট না করে কাজ শিখুন।

৪। ভালোভাবে ইংরেজী শিখুনঃ ফ্রি-হ্যান্ড ইংরেজীতে লিখার অভ্যাস করুন, কিভাবে একটা প্রোপজাল গুছিয়ে ভালভাবে লিখতে হয় সেটা শিখুন, ক্লায়েন্টদের সাথে কিভাবে প্রফেশনালি কমিউনিকেশন করতে হয় সেটা নিয়ে পড়াশুনা করুন।

আপওয়ার্ক এ RISING TALENT ব্যাজ পাবেন যেভাবে

একজন প্রোফেশনাল ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করার জন্য এই টিপস আপনার কাজে লাগবে। শুধু আপওয়ার্ক নয় অন্য যেকোন মার্কেটপ্লেসের জন্যই আপনি এই টিপস গুলো অনুসরণ করতে পারেন। মনে রাখবেন আপওয়ার্ক কখন কোন কারণ ছাড়া কারো অ্যাকাউন্ট ব্যানড/সাসপেন্ডেড/হোল্ড করেনা। আপওয়ার্ক নিরাপত্তাজনিত কারণে তাদের কন্ট্রাক্টরদের প্রতি আরোপ করা নীতিমালা আগের তুলনায় আরো কঠোরভাবে পালন করছে ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে আপওয়ার্ক কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়েই ক্ষেত্রবিশেষে কন্ট্রাক্টরদের অ্যাকাউন্ট ব্যানড/সাসপেন্ডেড/হোল্ড করে থাকে।

Recommended For You

About the Author: Techohelp

"Techohelp" একটি টিউটরিয়াল ভিত্তিক বাংলায় ব্লগ। যারা কম্পিউটার, ইন্টারনেট, ওয়েবসাইট এবং অনলাইন প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে চান তাদের জন্য Techohelp একটি দারুন প্লাটফরম। অনলাইনে ইনকাম বা ফ্রিলাঞ্চিং বিষয়ে জানতে ও শিখতে আগ্রহিদের কথা মাথায় রেখে, ওয়েবসাইটের সকল কন্টেন্ট এমন ভাবে লেখা হয় যেন আপনি নিজেই ঘরে বসে নিজের মতন সহজে শিখতে পারেন। ফেসবুকে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুনঃ https://www.facebook.com/Techohelp/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *