রিফ্রেশ রোগে ভুগছেন নাতো? বারবার রিফ্রেশ করলে কি কম্পিউটার ফাস্ট হয়?

কম্পিউটার রিফ্রেশ

উইন্ডোজ কম্পিউটারের ডেস্কটপ বা ল্যাপ্টপে মাউসের রাইট বাটনে ক্লিক করলে Refresh নামে একটি অপশন পাওয়া যায়। এটির কাজ কি? রিফ্রেশ করলে কি কম্পিউটারের কাজের গতি বাড়ে? কম্পিউটারে কাজ করার সময় প্রায় সব ব্যবহারকারী মাউসের রাইট বাটন ক্লিক করে রিফ্রেশ করে। তারা ভাবেন রিফ্রেশ করলে কম্পিউটারে গতি বাড়ে। আসলে ব্যবহারকারীদের এই ধারণা ভুল। রিফ্রেশের সঙ্গে কম্পিউটারের র‌্যামের কোনো সম্পর্কই নেই। অর্থাৎ আপনি যতই রিফ্রেশ করুন না কেন, আপনার কম্পিউটার ফার্স্ট হবে না।

বরং একবারে উল্টোটাও ঘটে অর্থাৎ রিফ্রেশ করার কারনে আপনার কম্পিউটার স্লো হতে পারে। প্রত্যেকবার রিফ্রেস করার সময় আপনার উইন্ডোতে থাকা সকল আইকন এবং ফাইল গুলো রিলোড হয় ফলে কম্পিউটারের পাওয়ার ক্ষয় হয়। ধরুন আপনার কম্পিউটারের একটি ফোল্ডারে ১০০টি ভিডিও ফাইল বা ইমেজ রয়েছে, এখন আপনি যখন ফোল্ডারটি ওপেন করবেন তখন ভিডিও ফাইল গুলোর থ্যাম্বনেইল লোড হতে ও ফোল্ডারটি রেডি হতে একটু সময় লাগবে। এই সময় আপনি যদি রিফ্রেস করেন, তখন ফাইল গুলোর থ্যাম্বনেইল আবার রিলোড হবে, ফলে উইন্ডোজ এক্সপ্লোরার স্লো হয়ে পড়বে।
মূলত ডেস্কটপ হচ্ছে একটি ফোল্ডার। প্রত্যেক ফোল্ডারের বৈশিষ্ট হচ্ছে ফোল্ডারের ভিতরে কোন কিছু পরিবর্তন হলে অপারেটিং সিস্টেম ফোল্ডারটি স্বয়ংক্রিয়ভঅবে রিফ্রেশ করে। কিন্তু যদি কোনো কারনে এ স্বয়ংক্রিয় রিফ্রেশ না হয় তখনই ম্যানুয়ালি অর্থ্যাৎ মাইসের রাইট বাটনে ক্লিক করে অথবা কিবোর্ডের F5 বাটনে প্রেস করে রিফ্রেশ করতে হয়। তাই রিফ্রেশ করা হয় বা করতে হয় শুধু তখনই, যখন ডেস্কটপে বা কোনো ফোল্ডারের ভিতর কোনো ফাইল/ফোল্ডারে পরিবর্তন করা হলে তা ঠিক মত দেখা যায়না বা দেখায় না। এসময় রিফ্রেশ করলে অপারেটিং সিস্টেম পরিবর্তনটি ঠিক করে ফেলে এবং মনিটরে আপডেটেড ফলাফল দেখায়।

কম্পিউটার রিফ্রেশ করলে র‌্যাম বা কম্পিউটার ম্যামরি পরিষ্কার হয়না ফলে গতি বাড়ার কোন সম্ভাবনা নেই। আমরা যখন কোন ফাইল ফোল্ডার তৈরি, নাম পরিবর্তন, স্থান পরিবর্তন, মুছে ফেলা, ডেস্কটপ আইকন ঠিক ভাবে দেখতে বা আইকন ঠিকভাবে এ্যালাইনমেন্ট করতে চাই সেক্ষেত্রে রিফ্রেশ করতে হয়।
আলোচনা থেকে বুঝতেই পারছেন আপনি এতদিন যা শুনে এসেছেন যে রিফ্রেশ করলে কম্পিউটারে গতি বৃদ্ধি পায় তা আসলে ভুল। তো ডেস্কটপে বার বার রিফ্রেশ করে কোনো লাভ নেই। উল্টা আপনার পিসিতে যদি কোনো কাজ চলতে থাকে, তাহলে রিফ্রেশের ফলে ঐ কাজের গতি ঐ সময়ের জন্য কিছুটা কমে যাবে, কারন রিফ্রেশ করতেও কিছুটা শক্তি দরকার।

অনেকেই আছেন কম্পিউটার চালু করেই রিফ্রেশ করতেই থাকে, করতেই থাকে। এটা আসলে একটা বদ অভ্যাস, যেটা না জেনে অনেকেই করে থাকেন। তারা কম্পিউটারে একটু কাজ করেই রিফ্রেশ বাটন চাপতেই থাকে। আশা করি, এই আটিকেলটি পড়ে আপনাদের ভুল ভাঙবে। এবং বারবার রিফ্রেস করা থেকে নিজের হাতকে এবং মাউসকে মুক্তি দিবেন।

Recommended For You

About the Author: Soikat Singha

আমি একজন ফুলস্টেক ওয়েব ডেভেলপার। ডোমেইন এবং হোষ্টিং প্রোভাইডার হিসেবে কাজ করছি বহু বছর। আমার বিশ্বাস আপনি ফ্রিল্যান্সিং বা অনলাইন ক্যারিয়ার বিষয়ে শিখতে চান। আমার লেখা বাংলা টিউটোরিয়াল আপনার ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্টে একটুও সাহায্য করতে পারলেই আমার সার্থকতা। ফেসবুকে আমার সাথে যুক্ত থাকুনঃ https://www.facebook.com/soikatsingha24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *