কোন প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজটি শিখবো? কোনটির চাহিদা বেশি?

কোন প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজটি শিখবো?

বহু প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ আছে। এদের মধ্যে থেকে নতুন যারা প্রোগ্রামিং শিখতে চায় তারা কোনটি বেছে নিবেন সেই সিদ্ধান্ত নিতে বেশ দ্বিধা-দন্দে পরতে হয়। কোনটি শিখলে ভালো চাকরি পাওয়া যাবে? কোনটির চাহিদা বেশি? কোন প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজটি শিখবো? কিভাবে প্রোগ্রামার হবো? শেখার জন্য সবচেয়ে ভালো প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ কোনটি?

সরাসরি এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কঠিন। আমি এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনাকে প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজের ব্যাবহারগুলো ও কিছু তথ্য তুলে ধরলাম মাত্র। আপনার প্রয়োজন অনুযায়ি সীদ্ধান্ত নিবেন আপনি কোন প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজটি শিখবেন। আমি এখানে আমার ব্যাক্তিগত মতামত দিয়ে আপনাকে প্রভাবিত করবোনা। কোন প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ শিখবেন সেটা নির্ভর করে আপনি কি করতে চান বা কি বানাতে চান।

জাভাস্ক্রিপ্ট (JavaScript)

জাভাস্ক্রিপ্ট প্রাথমিক ভাবে ক্লাইন্ট সাইড স্ক্রিপ্টিং ল্যাঙগুয়েজ এবং ফ্রন্টএন্ড ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর জন্য ব্যাবহৃত হয়। জাভাস্ক্রিপ্ট সব ধরনের ব্রাউজারেই সাপোর্ট করে। জাভাস্ক্রিপ্ট দিয়ে ইন্টারেক্টিভ ওয়েব এ্যাপস ও অনলাইন গেম তৈরি করা যায়। জাভাস্ক্রিপ্ট এর কয়েকটি ফ্রেমওয়ার্ক হলো jQuery, AngularJS, Ember.js, React এবং Node.js.

JavaScript শুধুমাত্র ফ্রন্টএন্ড ডেভেলপমেন্টেই ব্যাবহৃত হয়না, বর্তমানে Node.js platform এর সাহায্যে সাভার সাইড ল্যাংগুয়েজ হিসেবেও এটা ব্যাপকভাবে ব্যাবহৃত হচ্ছে।  জাভাস্ক্রিপ্টের phonegap ফ্রেমওয়ার্ক এর মা্ধ্যমে hybrid mobile তৈরি করা যায়। জাভাস্ক্রিপ্ট দিয়ে native mobile apps বানাতে ফেসবুকের React Native সমর্থন করে।

JavaScript ল্যাংগুয়েজ ওয়েব সাইট ফাংশনালিটি দিতে অত্যান্ত জনপ্রিয়। এটা শেখা শুরু করা সহজ কিন্তু ল্যাংগুয়েজ হিসেবে মোটেও সহজ নয়। আপনি যদি এর গভিরে যান তাহলে বুঝতে পরেবেন এটা কতটা শক্তিশালি অনলাইন দুনিয়ায়। জাভাস্ক্রিপ্ট ল্যাংগুয়েজের সিনট্যাক্সগুলো সি ল্যাংগুয়েজ থেকে নেওয়া হয়েছে। এটা শেখা সহজ কারন শুরু করতে আপনাকে কম্পিউটারে কোন সফটওয়্যার ইন্সটল করতে হবেনা, ফলাফল ব্রাউজারেই দেখতে পারবেন। তাই যখনই কোন প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ প্রথমে শিখবো বললেই জাভাস্ক্রিপ্টের নাম প্রথমেই চলে আসে।

রুবি (Ruby)

Ruby মূলত বেকএন্ড ওয়েব ডেভেলপমেন্টের জন্য ব্যাবহৃত হয়।  অনেক জনপ্রিয় ওয়েব সাইট যেমন Airbnb, Shopify, Bloomberg, Hulu, Slideshare ইত্যাদি Ruby on Rails দিয়ে তৈরি। Ruby ডাইনামিক ও অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড স্ক্রিপ্টিং ল্যাংগুয়েজ। এটা দিয়ে ওয়েব, ওয়েব বেজ এ্যাপ্লিকেশন ও মোবাইল এ্যাপ তৈরি করা যায়। Ruby খুবই সহজ বোধগম্য। রুবি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজটি আরোও বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে এর Ruby on Rails নামের ফ্রেম ওয়ার্কের কারনে।  Twitter, Groupon এবং GitHub বিখ্যাত সাইটগুলো Ruby on Rails দিয়ে তৈরি।

এ ভাষার কোড মেইন্টেইন করা অনেক সহজ। খুব বেশি কমেন্টের দরকার হয় না। কোডে চোখ বুলালেই বোঝা যায়- ওই কোড কি উদ্দেশ্যে লেখা । রুবিতে কোনো সেমিকোলন নেই। এটি হোয়াইট স্পেস ইন্ডিপেন্ডেন্ট। ব্রাকেটের ব্যাবহার খুবই কম।

এটা শেখা খুবই সোজা। কারো যদি যেকোন একটা প্রোগ্রামিং ল্যাঙগুয়েজের বেসিক জানা থাকে তাহলে Ruby শিখতে অল্প সময় লাগে। প্রোগ্রামিং সমস্যা সমাধানে এই ল্যাংগুয়েজের রয়েছে বিশাল কমিউনিটি যেখান থেকে সহেজেই সাহায্য পেতে পারেন। এবং অনলাইনে এটার বিশাল ডকুমেন্টেশন রয়েছে যা শিক্ষার্থীদের ভিষন সাহায্যকারী।

গো (golang)
গুগল এর গো প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ যা golang হিসেবেও পরিচিত। জাভা এবং সি এর মত প্রতিষ্ঠিত ল্যাংগুয়েজ এর তুলনায় এর সোর্স কোড সহজবোধগম্য এবং দ্রুত কার্যকারী। গো গুগল এর তৈরি একটি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ যেটি ২০০৭ সালে ডেভেলপ করেন । প্রোগ্রামিং অন্যান্য অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড ল্যাংগুয়েজের মত এটির কাঠামো মোটেই জটিল নয়। এখানে সাবক্লাসিংয়ের কোনো ব্যাপার নেই।

ইন্টারফেস ব্যবহারের মধ্যে অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিংয়ে এটি ভিন্ন মাত্রা বা ভিন্ন স্বাদ এনে দিয়েছে। এতে পাইথন ল্যাংগুয়েজের ছাপ আছে। পাইথনের মত গো ও স্লাইস সাপোর্ট করে, যার সুবাদে সহজ একটি সিনট্যাক্স দিয়ে একটি অ্যারের নির্দিষ্ট অংশকে রেফার করা যায়।

এটি স্ট্যাটিক টাইপ ল্যাঙ্গুয়েজ যার সিনট্যাক্স সি প্রোগ্রামিং এর মত । এটা গ্যরাবেইজ ক্যালেকশান , টাইপ সেফটি , ডাইন্যামিক টাইপিং ক্যাপাবিলিটি , অ্যাডভাঞ্চ বিল্ড ইন প্যাথ , এছাড়া অনেক বড় লাইব্রেরী প্রভাইড করে থাকে । গুগলের তিনজন কর্মকর্তা রবার্ট গ্রিসেমার, রব পাইক এবং কেন থম্পসন একত্রে এই ভাষাটি নির্মাণ করেন এর সোর্স কোড ২০০৯ সালে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় । জাভা এবং সি এর মত প্রতিষ্ঠিত ল্যাংগুয়েজ এর তুলনায় এর সোর্স কোড সহজবোধগম্য এবং দ্রুত কার্যকারী । এটিকে এমনভাবে বানানো হয় যাতে এই প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজটি Linux, OS X, Windows, এছাড়াও BSD এবং Unix এর কিছু ভার্শন এ চলতে পারে । এমনকি ২০১৫ সাল থেকে এটি স্মার্টফোন এও ব্যবহারযোগ্য হয়। বিবিসি , সাউন্ড ক্লাউড , ফেসবুক এর মত বড় বড় ওয়েবসাইটে গুগল গো এর ব্যবহার দেখা যায় ।

ভিজুয়াল বেসিক (Visual Basic)
ভিজুয়াল বেসিকে সংক্ষেপে বলা হয় ভিবি। সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফট এ ভাষাকে বাজারে আনে পুরাতন বেসিক ভাষার উন্নত সংস্করণ হিসেবে ১৯৯১ সালে।

উইকিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, কম্পিউটারের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা এটি। এটি একটি পুরানো প্রোগ্রামিং ভাষায় হলেও বর্তমানে সময়ে এখনও এর ব্যবহার রয়েছে।

পাইথন (Python)

পাইথন হাই লেভেল প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজগুলো মধ্যে অন্যতম। নতুন প্রোগ্রামিং ল্যাঙগুয়েজ শিক্ষার্থীদের কাছে পাইথন সবচেয়ে প্রিয়। ডেস্কটপ এ্যাপস, ওয়েব এ্যাপস ডেভেলপমেন্ট, ভিডিও গেম, কম্পিউটার গ্রাফিক্যঅল ইউজার ইন্টারফেস, ডাটা মাইনিং, সাইন্টিফিক কম্পিউটিং, ডাটা এ্যানালাইসিস এবং বায়োইনফরমেটিক্স এর ক্ষেত্রে এটা ব্যাপকভাবে ব্যাবহৃত হয়।

Google, NASA, Youtube, Dropbox, Pinterest, Instagram, Reddit, BitTorrent, Spotify, Civilization IV এবং আরোও বহু ওয়েব সাইট পাইথন দিয়ে বানানো।

পাইথন প্রোগ্রামারদের কাছে প্রিয় হওয়ার কারন হলো এর মাধ্যমে প্রোগ্রাম লেখা অত্যন্ত সহজ। অন্যান্য ল্যাংগুয়েজে যেখানে অনেক লআন কোড লিখতে হয় সেখানে পাইথনে কয়েক লাইন কোড লিখলেই চলে। পাইথন শেখার জন্য অনলাইনে অজস্র ডকুমেন্টেশন ও টিউটোরিয়াল  রয়েছে যা নতুন শিক্ষার্থীদের কাছে একটা বড় সুযোগ।

১৯৯১ সালে গুইডো ভ্যান রস্যিউম এটি প্রথম প্রকাশ করেন। এটি তৈরির সময় প্রোগ্রামের পঠনযোগ্যতার উপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এখানে প্রোগ্রামারের পরিশ্রমকে কম্পিউটারের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাইথনের কোর সিনট্যাক্স ও সেমান্টিক্‌স খুবই সংক্ষিপ্ত। তবে ভাষাটির স্ট্যান্ডার্ড লাইব্রেরি অনেক সমৃদ্ধ। যেসব বড় প্রকল্পে পাইথন ব্যবহৃত হয়েছে তার মধ্যে জোপ অ্যাপ্লিকেশন সার্ভার, এমনেট ডিস্ট্রিবিউটেড ফাইল স্টোর, ইউটিউব ও মূল বিটটরেন্ট ক্লায়েন্ট উল্লেখযোগ্য।

তথ্য নিরাপত্তা শিল্পে পাইথনে বহুবিধ ব্যবহার লক্ষনীয়। এর মধ্যে ইমিউনিটি সিকিউরিটির কিছু টুলস, কোর সিকিউরিটির কিছু টুলস, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনের নিরাপত্তা স্ক্যানার ওয়াপিটি ও ফাজার টিএওএফ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

পিএইচপি (PHP)

PHP একটি সার্ভার সাইড প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ। এটাও বিগিনার ফ্রেন্ডলি অর্থাৎ সহজে শেখা শুরু করতে পারবেন। কিভাবে কোডগুলো কাজ করছে তা সহজে বোঝা যায় তাই শিখতেও সহজ। ইন্টারনেট দুনিয়ার বেশিরভাগ ওয়েব সাইটেই পিএইচপি দিয়ে তৈরি।  Facebook, Wikipedia, Yahoo!, Tumblr, WordPress এবং আরোও অজস্র ওয়েব সাইট পিএইচপি দ্বারা তৈরি।

আজকাল যেহেতু WordPress কন্টেন্ট মেনেজমেন্ট সিস্টেমটি PHP দিয়ে তৈরি সেহেতু আপনি যদি ভালো মানের ওয়ার্ডপ্রেস থিম ডেভেলপার বা প্লাগইন ডেভেলপার হতে চান তাহলে PHP অবশ্যই শেখা দরকার। অনেকেই আপনাকে প্রথমেই পিএইচপি শিখতে বলবে কারন এটা শেখা সহজে শুরু করা যায়। PHP দিয়ে আপনি ডাইনামিক ওয়েব সাইট ও ভালো মানের ওয়েব এ্যাপ্লিকেশন বা সফটওয়্যার তৈরি করতে পারবেন।

জাভা (Java)

জাভা প্রথম রিলিজ হয় ১৯৯৫ সালে ‘Write Once Run Anywhere’ মূলমন্ত্রের উপর ভিত্তি করে। এটা ক্লাস বেস্ড অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং ল্যাঙগুয়েজ। এটার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো জাভা দিয়ে ক্রস প্লাটফর্ম অর্থাৎ সকল অপারেটিং সিস্টেম ও ডিভাইসের কোড রান করা যায়।

জাভা এ্যান্ড্রয়েড এ্যাপস, ডেস্কটপ এ্যাপস, গ্রাফিক ইউজার ইন্টারফেস ও গেমস তৈরিতে ব্যাবহৃত হয়। জাভা সাধারনত এন্টারপ্রাইজ লেভেলের বেকএ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের জন্য সার্ভার সাইড ল্যাঙগুয়েজ হিসেবেই বেশি ব্যাবহৃত হয়। জাভা প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজের জনপ্রিয়তার আরেকটি প্রধান কারন এ্যান্ড্রয়েড ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে এর ব্যাপক ব্যাবহার।

Hadoop হলো একটি জনপ্রিয় জাভা ভিত্তিক ফ্রেমওয়ার্ক যেটা বিগ ডাটা প্রসেসিংয়ের জন্য Yahoo, Facebook, and Amazon Web Services ইমপ্লিমেন্ট করেছে। জাভা সি ল্যাংগুয়েজ থেকে বেশি ম্যামরি ব্যাবহার করে।

সি (C)

C প্রোগ্রাম সিস্টেম সফটওয়্যার ও অপারেটিং সিস্টেমের বোধগম্য ভাষা হিসেবে ব্যাহৃত হয়। প্রায় সকল কম্পিউটারের ভাষাই সি ল্যাংগুয়েজ দ্বারা প্রভাবিত। বিশেষ করে  Objective-C এবং C++. তাই আপনি যদি সি শেখেন তাহলে অন্যান্য ল্যাংগুয়েজগুলোও সহজ হয়ে যাবে।  যদিও একটা সহজ কাজ করতে সি দিয়ে আপনাকে জটিলভাবে কোড লিখতে হবে। সেই কারনে নতুনদের কাছে এটা শেখা বেশ কষ্টকর। কিন্তু যদি ক্যারিয়ার হিসেবে প্রোগ্রামিং পছন্দ করেন করে থাকেন তাহলে সি শিখে রাখা উচিৎ।

৭০-এর দশকে কাজ করার সময় সি তৈরি করেন ডেনিস রিচি ও বেল ল্যাবে। । ভাষাটি তৈরির প্রথম উদ্দেশ্য ছিল ইউনিক্স অপারেটিং সিস্টেমের কোড লেখা। অনেক প্রোগ্রামিং ভাষার বেসিক হিসেবে এটি কাজ করে। এটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে এর পোর্ট্যাবিলিটি। এ ভাষা দিয়ে রচিত প্রোগ্রাম যে কোনও অপারেটিং সিস্টেমের কম্পিউটারে ব্যাবহার করা যায়।

সি প্লাস প্লাস (C++)

C++ অত্যন্ত শক্তিশালি অবজেক্ট অরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ (OPP)। এটি সি ল্যাংগুয়েজের উপর ভিত্তি করে ডেভেলপ করা। C++ দিয়ে ডেস্কটপ এপ্লিকেশন, গেমস ডেভেলপমেন্ট, মোবাইল এ্যাপস, সার্চ ইজ্ঞিন ও ওয়েব এ্যাপস তৈরি করতে ব্যাবহৃত হয়। C++ ভিষন ফাস্ট যেকারনে ফেসবুক তার ডাটাবেজ প্রোগ্রামিং করতে এটি ব্যাবহার করে।

Adobe Systems, Amazon, Paypal, Chrome সহ বিশ্বের বেশির ভাগ নামি দামি কোম্পানি সফটওয়্যার তৈরিতে C++ ল্যাংগুয়েজটি ব্যাবহার করেছে। যদিও বিগিনার শিক্ষার্থীদের কাছে এটা শেখা বেশ কষ্টকর।

সি সার্প (C#)

C# (“C Sharp”) প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজটি তৈরি করা হয়েছে  Microsoft’s .NET framework দিয়ে যা শুধমাত্র Microsoft Windows এর জন্য ব্যাবহৃত হয়। C# দিয়ে উইন্ডোজ প্লাটফর্মের জন্য ওয়েব সাইট, গেম ডেভেলপমেন্ট প্রভৃতির কাজ করা যায়। যদিও অতীতে এটা দিয়ে ক্রস-প্লাটফর্ম কম্পাটিবল ছিলনা কিন্তু বর্তমানে Xamarin এর একটি ওপেন-সোর্স প্রোজেক্ট Mono যার দ্বারা লিনাক্স ডেভেলপারদের জন্য পোর্ট সুবিধা দিয়ে থাকে। বর্তমানে Xamarin এর সাহায্যে  iOS এবং Android এর জন্যনেটিভ মোবাইল এ্যাপস (native mobile apps) তৈরি করা যায়।

অবজেক্টিভ সি (Objective C)
অবজেক্টিভ সি একটি রিফ্লেকটিভ, অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং ভাষা। এত সি ভাষার সঙ্গে স্মলটকের মেসেজ আদান পদ্ধতির সম্মিলন ঘটেছে। বর্তমানে এটি মূলত ম্যাক ওএস এক্স, আইফোন ওএসে ব্যবহৃত হয়। এটি তৈরি করা হয়েছে ওপেন স্টেপ স্ট্যান্ডার্ডের ওপর ভিত্তি করে- যা নেক্সটস্টেপ, ওপেনস্টেপ ও কোকোয়া ফ্রেমওয়ার্কের প্রধান ভাষা।

সুইফট (Swift)
সুইফট টেক জায়ান্ট অ্যাপল কর্তৃক নির্মিত প্রোগ্রামিং ভাষা। এ ভাষা অবজেক্টিভ সি- এর চেয়েও দ্রুত কাজ করে। এটি সহজেই শেখা যায়। প্রোগ্রামাররা কোড লিখে তার আউটপুট একই সময় দেখতে পারবেন। সুইফট যেমন কম্পাইলড ল্যাঙ্গুয়েজের মতো শক্তিশালী ও ইফিশিয়েন্ট, তেমনি অন্য জনপ্রিয় ভাষার মতো সহজ ও ইন্টারঅ্যাকটিভ একটি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ।

সুইফট একটি উচ্চ খ্যাতি সম্পন্ন প্রোগ্রামিং ভাষা যা ২০১৪ সালে অ্যাপল এর WWDC সম্মেলনে চালু করা হয়েছিল । সুইফট রুবি এবং পাইথনকে একত্র করেছে এবং আধুনিক মৌলিক প্রোগ্রামিং ল্যঙ্গুয়েজ এর সমন্বয় ঘটিয়েছে । অ্যাপল এ্যাপাচি লাইসেন্সের আওতায় ডিসেম্বর ২০১৫ সালে এই ল্যঙ্গুয়েজটি ওপেন সোর্স করে দেয় । অর্থাৎ এখন এর সোর্স কোড সহজেই এডিট করা সম্ভব । সি এবং অবজেক্টিভ সি এর সাথে এর কিছু মিল থাকলেও এতে আছে অনেক নতুন ফিচার । ios এর অ্যাপস তৈরির জন্য অবজেক্টিভ-সি এর পরেই সুইফট এর প্রয়োজন পড়বে ।

পার্ল (Perl)
পার্ল ভাষার উদ্ভাবন করেন ল্যারি ওয়াল। ১৯৮৭ সালে এটি প্রথম প্রকাশ করা হয়। এ ভাষায় সি, বোর্ন শেল, অক, সেড ও লিস্প থেকে ফিচার ধার করা হয়েছে। গাঠনিকভাবে এ ভাষায় অক ও সি ভাষায় প্রচলিত দ্বিতীয় বন্ধনীতে আবদ্ধ কোড ব্লকের ধারণা অনুসরণ করা হয়েছে। এটি স্ট্রিং প্রক্রিয়াকরণে একটি অত্যন্ত কার্যকরী। বিজনেস ইনসাইডারের তালিকায় থাকা বাকি পাঁচটি প্রোগ্রামিং ভাষা হলো গ্রেবি,এসেম্বলি ল্যাংগুয়েজে,প্যাসকেল,ম্যাটল্যাব ইত্যাদি।এগুলো ভালোভাবে জানা থাকলে বিশ্বব্যাপী কাজ পেতে কোনো সমস্যা হবে না। এসব ভাষার পুরোপুরি দখল থাকলে একজন প্রোগ্রামারকে বেকার থাকতে হবে না।

কটলিন (kotlin)

কটলিন প্রোগ্রামিং ল্যংগুয়েজ হল এন্ড্রয়েড এপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টের জন্যে অফিশিয়াল ল্যংগুয়েজ। যা তৈরী করেছে জেটব্রেইনস নামের সফটওয়্যার কোম্পানি। মজার বিষয় হচ্ছে, এই প্রোগ্রামিং ভাষার নামকরণ করা হয় Kotlin Island নামক একটি দ্বীপ থেকে, যার অবস্থান সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরের খুব কাছেই। ছোট্ট করে একটি কথা না বললেই নয়, Java এবং Kotlin এর মাঝে গঠনগত অনেকটাই মিল খুজে পাওয়া যায় এবং Java এর মত Kotlin ও JVM (Java Virtual Machine) এর উপর নির্ভরশীল। জেটব্রেইনস এর দাবি কটলিন হলো সেফ, কনসাইজ এবং টুল ফ্রেন্ডলি। জাভার কোড কটলিনে কনভার্ট করার ফিচার এন্ড্রয়েড স্টুডিওতে যুক্ত আছে। চাইলে ডেভেলপাররা জাভার কোড কটলিনে কনভার্ট করতেই পারেন।

আর R
‘আর’ একটি ওপেন সোর্স কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ভাষা, যা পরিসংখ্যান বিষয়ক কাজের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। বিশ্বের বিখ্যাত পরিসংখ্যানবিদদের অক্লান্ত ও অবিরত পরিশ্রমের ফসল। এটি শুধু একটি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ নয়, একই সঙ্গে একটি পরিসংখ্যানিক প্যাকেজ ও ইন্টারপ্রেটারও।

প্রথম দিকে শুধু পরিসংখ্যান বিষয়ক কাজের জন্য ‌’আর’ প্রোগ্রাম তৈরি করা হলেও এখন গ্রাফিকাল টেকনিকগুলো অত্যন্ত সহজে এ প্রোগ্রাম ব্যবহার করে করা যাচ্ছে।

এসকিউএল (SQL)

SQL অন্যান্য প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ থেকে আলাদা। SQL এর পূর্ণ রূপ হলো Structured Query Language অর্থাৎ এটা একটা query language যা databases এর সাথে যোগাযোগ করতে ব্যাবহৃত হয়। এসকিউএল দিয়ে সরাসরি কোন কিছূ তৈরি করা যায়না কিন্তু ডাটাকে ম্যানেজ করতে, এক্সেস করতে, এ্যানালাইজ করতে এটা দরকার। আপনি যদি ডাইনামিক ওয়েব সাইট বানানো শিখতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই  SQL শিখতে হবে।

প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ শেখার একটি সুবিধা হলো আপনি যদি যেকোন একটি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজটি শেখেন তাহলে অন্যান্য ল্যাংগুয়েজ শেখতেও আপনাকে খুব বেশি কষ্ট করতে হবেনা। এসব ভাষার পুরোপুরি দখল থাকলে একজন প্রোগ্রামারকে বেকার থাকতে হবে না।

Recommended For You

About the Author: Techohelp

"Techohelp" একটি টিউটরিয়াল ভিত্তিক বাংলায় ব্লগ। যারা কম্পিউটার, ইন্টারনেট, ওয়েবসাইট এবং অনলাইন প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে চান তাদের জন্য Techohelp একটি দারুন প্লাটফরম। অনলাইনে ইনকাম বা ফ্রিলাঞ্চিং বিষয়ে জানতে ও শিখতে আগ্রহিদের কথা মাথায় রেখে, ওয়েবসাইটের সকল কন্টেন্ট এমন ভাবে লেখা হয় যেন আপনি নিজেই ঘরে বসে নিজের মতন সহজে শিখতে পারেন। ফেসবুকে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুনঃ https://www.facebook.com/Techohelp/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *